নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীর পর এবার বাব এল-মান্দেব। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে অবরুদ্ধ সমুদ্র-বাণিজ্যের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। আর তার সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে রকেটগতিতে ছুটছে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির এই অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি ফের এক বড়সড় আর্থিক মন্দার সংকেত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইতিহাস বলছে, অতীতে ১৯৭৩ বা ১৯৯০ সালের বিশ্বিক সংকট কিংবা ২০০৮ সালের মন্দার নেপথ্যেও অন্যতম অনুঘটক ছিল তেলের অতিরিক্ত দাম। জ্বালানি মহার্ঘ হলে কেবল পরিবহন বা কলকারখানার খরচই বাড়ে না, লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির অবমূল্যায়ন এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দর ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
আরবিআই-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে দেশের মুদ্রাস্ফীতির সূচক প্রায় ২০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। তবে সমস্ত আশঙ্কার মাঝেও কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে ব্রিকস জোট। রাশিয়া, ইরান, বা সউদি আরবের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লি যদি রুপিতে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে পারে, তবে এই বিপুল অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব হতে পারে।