The NewsNest Desk: জন্মদিনে দেশের জন্য সোনা। জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসে ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের ঝিই বাওকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন অসমের লভলিনা বোরগোহাইন। তাঁর হাত ধরেই ১২ বছর পর মহিলাদের বক্সিংয়ে এশিয়ান গেমসের সোনা পেল ভারত। এই জয়ের ফলে কিংবদন্তি এমসি মেরি কমের পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে এশিয়ান গেমসে সোনার পদক জিতলেন লভলিনা।
২৯ বছর বয়সি লভলিনার কাছে এই সোনা শুধু একটি পদক নয়, কঠিন সময় পেরিয়ে ফিরে আসার স্বীকৃতিও। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে পদক না পাওয়ার পর বক্সিং ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন তিনি। তার আগে টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে দেশের অন্যতম পরিচিত মহিলা বক্সার হয়ে উঠেছিলেন লভলিনা। কিন্তু প্যারিসে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁকে।
প্যারিসের পর প্রায় এক বছর আন্তর্জাতিক বক্সিং থেকে দূরে ছিলেন লভলিনা। ফিরে এসে অবশ্য শুরুটা মসৃণ হয়নি। গত বছরের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় রাউন্ডেই হারতে হয়েছিল তাঁকে। বিশ্ব বক্সিং কাপের ফাইনালেও অংশ নেননি। চলতি বছরের কমনওয়েলথ গেমসেও সোনা পাননি তিনি। রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। সেই ফল তাঁকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি বলেই জানিয়েছেন লভলিনা। নাগোয়ায় সেই আক্ষেপই যেন মুছে ফেললেন অসমের বক্সার। ফাইনালে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। চিনের বাওয়ের বিরুদ্ধে পাঁচ বিচারকের কাছ থেকেই ৫-০ সিদ্ধান্তে জয় ছিনিয়ে নেন। এর সঙ্গে আগের এশিয়ান গেমসে জেতা রুপোর পদককে সোনায় বদলে ফেললেন তিনি।
জয়ের পর লভলিনা বলেন, একসময় তিনি বক্সিং ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জেতার পর তিনি খুশি ছিলেন না। তবে একজন ক্রীড়াবিদের জীবনে হার, চোট এবং কঠিন সময় থাকবেই—সেগুলি সামলে এগিয়ে যাওয়াই আসল বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের পুরনো সময়ের কথা বলতে গিয়ে লভলিনা আরও জানান, একটা সময়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব তাঁকে পিছিয়ে দিয়েছিল। সেই সময়ের নিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে তিনি নিজেকেই বলতেন, “তুমি আত্মবিশ্বাসী, তুমিই সেরা।” এখন প্রতিটি প্রতিযোগিতা থেকেই কোনও না কোনও পদক নিয়ে ফিরছেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের সোনা জয়ের পর প্রথমে মাকেই ফোন করতে চান লভলিনা। তাঁর মা মেয়ের বক্সিং ম্যাচ দেখেন না, কারণ মেয়েকে নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত থাকেন। তাই সোনা জয়ের খবর মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তাঁর প্রথম কাজ। চিনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মানসিক দৃঢ়তার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন লভলিনা। তাঁর মতে, জেতার বিশ্বাসটা মাথায় থাকলে কোনও প্রতিপক্ষই সহজে হারাতে পারে না। জন্মদিনে এশিয়ান গেমসের সোনা জিতে সেই আত্মবিশ্বাসেরই যেন সবচেয়ে বড় প্রমাণ দিলেন অসমের এই বক্সার।