কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক পরিকাঠামো আরও বিস্তারের লক্ষ্যে শাখার সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস। সংগঠনের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে প্রায় ৫ হাজার শাখা ছিল। মহালয়া, অর্থাৎ ১০ অক্টোবরের মধ্যে সেই সংখ্যা ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এই সম্প্রসারণের জন্য অক্টোবরের প্রথম ১০ দিন রাজ্যজুড়ে একাধিক বিশেষ প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায় সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, মে মাস পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫ হাজার শাখা ছিল। বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে এবং অনেক নতুন মানুষ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও তাঁর দাবি। ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যে ১০ হাজার শাখায় পৌঁছনোর ব্যাপারে সংগঠন আশাবাদী বলে জানিয়েছেন তিনি।
সংগঠনের এই সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণদের, বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মকে। বিভিন্ন জেলায় যুব সম্মেলন, যোগাযোগ কর্মসূচি এবং সংগঠনের ভাবনা ও সামাজিক কাজকর্ম সম্পর্কে প্রচারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগস্টেই প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই যুব-সংযোগ কর্মসূচির কথা সামনে এসেছিল।
আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোয় শাখার গুরুত্ব যথেষ্ট। নিয়মিত শাখায় শারীরিক অনুশীলন, আলোচনা এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়। সংগঠনের স্থানীয় স্তরের বিস্তারে এই শাখাগুলিই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
রাজ্যে শাখা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামোতেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনের কাজ আরও বিস্তৃতভাবে পরিচালনার জন্য সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কলকাতার নিউ টাউনে আরএসএসের নতুন পাঁচতলা ভবন ‘কেশব স্মৃতি’ চালু হয়েছে। নতুন ভবনটি সংগঠনের কাজের পরিধি বাড়ার সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত পরিকাঠামো হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের অক্টোবরের পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়েও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর ৮ অক্টোবর বর্ধমানে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। সেই সফরে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
ফলে দুর্গাপুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের সাংগঠনিক তৎপরতা আরও বাড়তে চলেছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার শাখায় পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে সংগঠনটির স্থানীয় স্তরের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে ১০ হাজারের সংখ্যা বর্তমানে একটি লক্ষ্যমাত্রা—আরএসএসের পক্ষ থেকে জানানো পরিকল্পনা অনুযায়ী মহালয়ার মধ্যে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।