Justice Sunita Agarwal, Justice Devendra Kumar Upadhyaya and Justice Aparesh Kumar Singh appointed to the Supreme Court.

Supreme Court সুপ্রিম কোর্টে তিন নতুন বিচারপতি, ৩৭-এ উঠল কর্মরত বিচারপতির সংখ্যা

The NewsNest Desk : সুপ্রিম কোর্টে যোগ হলেন তিন নতুন বিচারপতি। সপ্তাহের পর সপ্তাহ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল, বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংকে দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই তিনজন দায়িত্ব নেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে হবে ৩৭। অর্থাৎ অনুমোদিত ৩৮টি পদের মধ্যে আর মাত্র একটি পদ খালি থাকবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই তিন বিচারপতির নাম সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম শীর্ষ আদালতে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন কলেজিয়ামে ছিলেন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী, বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ। প্রয়োজনীয় আলোচনার পরই তিন বিচারপতির নাম সুপারিশ করা হয়।

কলেজিয়ামের সুপারিশের পর আইন ও বিচার মন্ত্রকের মাধ্যমে নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল এগোয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নিয়োগে সম্মতি দেন।

কে এই বিচারপতি সুনীতা আগরওয়াল?

১৯৬৬ সালের ৩০ এপ্রিল জন্ম বিচারপতি সুনীতা আগরওয়ালের। ১৯৯০ সালে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০১১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০১৩ সালে স্থায়ী বিচারপতি হন।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে তিনি গুজরাত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেন। পরিষেবা আইন, শিক্ষা এবং সাংবিধানিক বিষয় সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তাঁর রায় নজর কেড়েছে। বিশেষ করে নারী অধিকার সংক্রান্ত বিষয়েও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

জ্যেষ্ঠতার নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করা হলে ভবিষ্যতে তিনি ভারতের দ্বিতীয় মহিলা প্রধান বিচারপতি হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিচারপতি বি ভি নাগরত্নার পর তিনিই সেই সম্ভাব্য তালিকায় থাকবেন। ২০৩২ সালে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পেলে তাঁর মেয়াদ দুই বছরেরও বেশি হতে পারে।

বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়

১৯৬৫ সালের ১৬ জুন জন্ম বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায়ের। ২০১১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি। ২০২৩ সালে বম্বে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে চলতি বছরের শুরুতে তাঁকে দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করা হয়।

সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক আইন এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বিশেষ দক্ষতা রয়েছে বলে বিচার বিভাগীয় মহলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

বিচারপতি অপারেশ কুমার সিং

১৯৬৫ সালের ৭ জুলাই জন্ম বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের। ২০১২ সালে ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পান। পরে তেলঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হন।

আইনজীবী পরিবারের সন্তান বিচারপতি সিংয়ের বিচারিক কাজের ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য পরিচিতি রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই তিন নিয়োগ?

সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তিন বিচারপতির নাম সুপারিশের সময় জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, সততা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং বিভিন্ন হাইকোর্টের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল। বিশেষ করে এলাহাবাদ এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন বিচারপতি চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে শপথ নিতে পারেন। তাঁরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত মহিলা বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে হবে ছয়—যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এই নিয়োগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। সুনীতা আগরওয়াল, দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং অপারেশ কুমার সিং বর্তমানে যথাক্রমে গুজরাত, দিল্লি এবং তেলঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তাঁদের সুপ্রিম কোর্টে উন্নীত করার ফলে ওই তিন হাইকোর্টেই নতুন প্রধান বিচারপতি নিয়োগের প্রয়োজন হবে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলেজিয়াম এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

আইন ও বিচার মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন বিচারপতির নিয়োগ তাঁদের নিজ নিজ পদে দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই কার্যকর হবে।