সিনেমার গল্পে খলনায়ক হিংসা করছে, চরিত্র মাদক নিচ্ছে, কিংবা যৌন হিংসার ঘটনা দেখানো হচ্ছে—এমন দৃশ্য এখন থেকে পর্দায় কী ভাবে দেখানো যাবে, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট নিয়ম আনল কেন্দ্র। ১৯৯১ সালের নির্দেশিকা বদলে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশনের জন্য নতুন গাইডলাইন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।
নতুন নিয়মে হিংসা বা অপরাধকে মহিমান্বিত করা যাবে না। অপরাধীরা কী ভাবে অপরাধ করে, তার বিস্তারিত পদ্ধতি দেখিয়ে দর্শককে অপরাধে উৎসাহিত করা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখবে সিবিএফসি। অপ্রয়োজনীয় হিংসা, নিষ্ঠুরতা ও ভয়াবহ দৃশ্য এড়ানোর নির্দেশ রয়েছে।
মাদক, ধূমপান ও মদ্যপানকে ‘গ্ল্যামারাইজ’ করা নিয়েও কড়াকড়ি। ছবিতে মাদক সেবন বা পাচারের দৃশ্য থাকলে নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা দেখাতে হবে। যৌন হিংসার দৃশ্য গল্পের জন্য অপরিহার্য হলেও তা বিস্তারিত বা গ্রাফিক ভাবে দেখানো যাবে না। নারীকে অবমাননা করে এমন উপস্থাপনাও নিষিদ্ধ।
শিশুদের হিংসার শিকার, অপরাধী বা জোর করে হিংসার সাক্ষী হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীকে অবমাননা করা, ‘অ্যান্টি-সায়েন্টিফিক’ বা ‘অ্যান্টি-ন্যাশনাল’ মনোভাব প্রচার এবং ভারতের বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন বিষয়বস্তুও বোর্ডের নজরে থাকবে। আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে এমন বিষয় এবং মানহানিকর বক্তব্য নিয়েও রয়েছে বিধিনিষেধ।
তবে এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নির্দেশিকায় এক দিকে শিল্পীসত্তা ও সৃজনশীল স্বাধীনতা অযথা খর্ব না করার কথা বলা হয়েছে, অন্য দিকে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে একাধিক সীমারেখা টানা হয়েছে। ফলে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একাংশের প্রশ্ন—এই নিয়ম কি শুধু সার্টিফিকেশনকে আরও স্পষ্ট করবে, নাকি ভবিষ্যতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সিনেমার উপরও বাড়াবে নিয়ন্ত্রণ?
নতুন কাঠামোয় ইউ, ইউএ, ইউএ ৭+, ইউএ ১৩+, ইউএ ১৬+ এবং ‘এ’—এই বয়সভিত্তিক শ্রেণিবিভাগও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কোনও একটি দৃশ্য আলাদা করে নয়, গোটা সিনেমার সামগ্রিক প্রভাব এবং যে সময় ও সমাজকে গল্পে তুলে ধরা হয়েছে, তার প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।