KMC Election: Calcutta High Court halts KMC poll notification till ward delimitation case is decided.

KMC Election: ২০৯টি ওয়ার্ডে পুরভোট নিয়ে জট! কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আপাতত আটকে গেল নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি

Thenewsnest: কলকাতা পুরসভার নির্বাচন কি পিছিয়ে যাচ্ছে? পুরভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা নিয়ে এবার বড়সড় আইনি জট তৈরি হল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের এই নির্দেশের ফলে আপাতত আটকে গেল কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী প্রক্রিয়া।

১৪৪ থেকে ২০৯টি ওয়ার্ড, পুনর্বিন্যাস ঘিরেই বিতর্ক

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। গত ১১ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হন প্রাক্তন কাউন্সিলর দীপু দাস। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত পুরবোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এই মামলায় প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়। সেখানেই এবার বড়সড় স্বস্তি পেলেন মামলাকারী।

প্রশাসক কি নির্বাচিত পুরবোর্ডের বিকল্প হতে পারেন?

মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত স্মিতা পাণ্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। অথচ একজন প্রশাসককে নির্বাচিত পুরবোর্ডের সমতুল্য ক্ষমতা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। মামলাকারীর আরও দাবি, ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি। এমনকি রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ধরনের অভিযোগকে আইনি পরিভাষায় ‘গেরিম্যান্ডারিং’ বলা হয়। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্রের বক্তব্য ছিল, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ক্ষমতা রয়েছে। প্রশাসককে পুরসভার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল বলেও রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়।

সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভোট নয়

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মূল মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন ২০৯টি ওয়ার্ডের ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে না।তবে আদালত এখনও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্তভাবে অবৈধ ঘোষণা করেনি। মূল মামলার শুনানির পরই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে কলকাতা পুরসভার ভোটের আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। পুরভোটের নতুন দিনক্ষণ কবে ঘোষণা করা হবে, তা এখন নির্ভর করছে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, এখনই মিলবে না শিল্পের উৎসাহ ভাতা! মমতা সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর