Suvendu Adhikari blames the previous government for ₹50,000 crore in pending industrial incentives

Suvendu Adhikari ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া, এখনই মিলবে না শিল্পের উৎসাহ ভাতা! মমতা সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর

ক্ষমতায় বদল এসেছে, বদলেছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারও। কিন্তু রাজনৈতিক কৌশলে কি দেখা যাচ্ছে পুরনো ছবিরই পুনরাবৃত্তি? একসময় বাম সরকারের আর্থিক বোঝা, ঋণ এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে রাজ্যের পরিস্থিতির জন্য পূর্বসূরিদের দায়ী করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার প্রায় একই সুর শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। মমতা জমানার প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া শিল্প উৎসাহ ভাতার প্রসঙ্গ তুলে আপাতত সেই টাকা মেটাতে অপারগতার কথা জানিয়ে দিলেন তিনি। ফলে শিল্প সংস্থাগুলিকে পুরনো প্রতিশ্রুতির টাকা পাওয়ার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার নিউ টাউনের ‘উৎসারী’ সভাগৃহে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতির রূপরেখা প্রকাশের অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প সংস্থাগুলিকে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার বিপুল পরিমাণ অর্থ এখনও বকেয়া। শিল্প ও অর্থ দফতরের হিসাব অনুযায়ী, সেই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এত বড় অঙ্কের টাকা মেটানো রাজ্য সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

শুভেন্দুর বক্তব্য, আগের সরকার কোনও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলে পরবর্তী সরকার তা অস্বীকার করতে পারে না। কিন্তু এই বিপুল আর্থিক দায় বহন করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার প্রতি বছর ৭-৮ হাজার কোটি টাকা করে বকেয়া মেটালে আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হত না। ভবিষ্যতে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

মমতার রাজনৈতিক কৌশলেরই কি পুনরাবৃত্তি?

রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে তুলনার প্রশ্ন। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বাম সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা, আর্থিক দুরবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। রাজ্যের উন্নয়নের পথে পূর্বতন সরকারের আর্থিক উত্তরাধিকারকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেছিল তৃণমূল সরকার। বিভিন্ন সময়ে মমতার বক্তব্যের কেন্দ্রে থেকেছে বাম আমলের ঋণ ও আর্থিক দায়ের প্রসঙ্গ।

এবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্টে গিয়েছে। বিরোধী আসন থেকে ক্ষমতায় এসে শুভেন্দু অধিকারীও পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া আর্থিক বোঝাকে সামনে আনছেন। শিল্প সংস্থাগুলির বকেয়া মেটাতে না পারার কারণ হিসেবে মমতা সরকারের আমলের দায়কে তুলে ধরছেন তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, একসময় মমতা যে রাজনৈতিক যুক্তি ব্যবহার করতেন, এখন কি সেই একই কৌশলকে হাতিয়ার করছেন শুভেন্দু? সরকার পরিবর্তনের পর পূর্বসূরির রেখে যাওয়া সমস্যার দায় তুলে ধরে বর্তমান সরকারের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করার এই প্রবণতা বাংলার রাজনীতিতে নতুন নয়।

কীসের জন্য বকেয়া ৫০ হাজার কোটি?

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে চালু হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট সাপোর্ট ফর ইন্ডাস্ট্রিজ স্কিম’-এর অধীনে রাজ্যে বিনিয়োগকারী যোগ্য শিল্প সংস্থাগুলিকে একাধিক আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সরকার। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রমোশন অ্যাসিস্ট্যান্স বা আইপিএ। নির্দিষ্ট শর্তে ভ্যাট ও জিএসটি বাবদ জমা দেওয়া রাজস্বের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ফেরতের সুবিধা ছিল এই প্রকল্পে।

এ ছাড়াও বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড়, ঋণের সুদের উপর ভর্তুকি, কর্মসংস্থান তৈরির জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা, স্ট্যাম্প ডিউটিতে ছাড় এবং জমি রূপান্তর ফি মকুবের মতো একাধিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ এবং অ্যাঙ্কর ইউনিট সাবসিডির ব্যবস্থাও ছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ঘোষিত সুবিধার বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া থেকে গিয়েছে।

জমি নীতি নিয়ে বাম-তৃণমূল, দু’পক্ষকেই নিশানা

শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের নীতি নিয়েও বিগত দুই সরকারকে আক্রমণ করেছেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরের প্রসঙ্গ তুলে বাম আমলে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতির সমালোচনা করেন তিনি। অন্য দিকে, তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্পপতিদের নিজেদের উদ্যোগে জমি কিনে নেওয়ার নীতিকেও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্য, শিল্পায়নের জন্য কৃষকদের উপর জোর খাটানো যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনই জমির ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে সরকার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। নতুন শিল্পনীতিতে এই দুইয়ের মাঝামাঝি পথ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, কৃষকদের স্বার্থ বজায় রেখেই বিনিয়োগকারীদের জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রত্যক্ষ সহায়তা করতে চায় বর্তমান সরকার।

শুভেন্দুর দাবি, ২০২৬ সালের ৯ মে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত উদ্যোগ নতুন শিল্পনীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। তবে পুরনো বকেয়া মেটানোর প্রশ্নে আপাতত কোনও তাৎক্ষণিক স্বস্তি নেই শিল্প সংস্থাগুলির। একসময় বাম সরকারের আর্থিক উত্তরাধিকারকে রাজনৈতিকভাবে সামনে রেখেছিলেন মমতা, এবার সেই একই ধরনের যুক্তি নিয়ে সামনে এলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি নতুন সরকার কত দ্রুত রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।