The Newsnest Desk: আমেরিকার রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদল! মধ্যবর্তী নির্বাচনে (Midterm Elections) বড় ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই চলে গেল বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস—দুই জায়গাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের বাকি দু’বছরের শাসনকালে মার্কিন প্রশাসনের সামনে তৈরি হতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, সেনেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে রিপাবলিকানদের হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। কানসাস, আইওয়া, টেক্সাস, ওহাইও, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা এবং সাউথ ক্যারোলাইনার মতো রাজ্যে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে সেনেটে অন্তত সাতটি আসন নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছে বিরোধী শিবির। এর ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ট্রাম্পের দল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মধ্যবর্তী নির্বাচন?
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোট হয়। পাশাপাশি সেনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেনেটের ৩৫টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে।
এই নির্বাচনের ফলাফল সরাসরি প্রেসিডেন্টের মেয়াদ কমিয়ে দেয় না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে গেলে সরকারের আইন প্রণয়ন, বাজেট পাস এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এবার সেই পরিস্থিতিই তৈরি হল।
ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বাড়বে চ্যালেঞ্জ?
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় আগামী দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষ করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন নিয়ে কংগ্রেসে বিরোধীদের নজরদারি বাড়বে।
নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, অর্থনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং প্রশাসনের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে নির্বাচনী বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তরুণ ও হিস্পানিক ভোটারদের একাংশের সমর্থনও ডেমোক্র্যাটদের দিকে গিয়েছে বলে এপি-র নির্বাচনী বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সাংবিধানিক ক্ষমতা বহাল থাকছে। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে তাঁকে। ফলে আগামী দু’বছর ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনল। এখন দেখার, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা কীভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং ট্রাম্প প্রশাসন নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।