The NewsNest Desk: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং বিরোধী INDIA জোটের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে কটাক্ষ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় আর কোনও রাজনৈতিক গুরুত্ব নেই। তাই তাঁকে দিল্লিতেই রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়েছেন শুভেন্দু। কংগ্রেস ও সিপিএমের সঙ্গে মমতার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গত ৩০ অক্টোবর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লিমুখী রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আক্রমণ শানান তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলায় রাজনৈতিক জমি হারিয়ে এখন দিল্লিতে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন মমতা। কংগ্রেস ও সিপিএমের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় আর কিছু পাওয়ার নেই। তিনি দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস ও বাম নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। কংগ্রেসের কাছে রাজনৈতিক গুরুত্ব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতাকে ফের নির্বাচনে লড়ার চ্যালেঞ্জ
শুধু দিল্লি সফর নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এর আগে দু’বার নির্বাচনে মমতাকে পরাজিত করেছেন তিনি। সাহস থাকলে ফের ভোটে লড়াইয়ের ময়দানে নামার আহ্বান জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
INDIA জোটের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের আবহেই দিল্লিতে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। INDIA জোটের বৈঠকে যোগ দেওয়া এবং বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে মমতার সঙ্গে সিপিএমের জাতীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ নিয়েও কটাক্ষ করছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। একসময় যে দুই দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত ছিল, SIR ইস্যুতে তাদের নেতাদের যোগাযোগ ও যৌথ অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে মমতার দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। শুভেন্দুর আক্রমণের পাল্টা তৃণমূল নেতৃত্ব কী প্রতিক্রিয়া জানায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।