WB Bypolls: BJP Scores Big Wins in Nandigram and Rejinagar Bypolls

WB Bypolls: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান টপকে রেকর্ড হাসিরানির, রেজিনগরেও ৭২ হাজারের বেশি ভোটে জয় বিজেপির

The NewsNest Desk: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনেই বড় ব্যবধানে জয় পেল বিজেপি। নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ লক্ষ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার জিতেছেন ৭২ হাজারের বেশি ভোটে। দুই কেন্দ্রের ফলকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই কেন্দ্রেই একাধিক নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রাম থেকে ৮১ হাজার ২৩০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলেন তিনি। পরে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেন শুভেন্দু। সেই নির্বাচনে তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৫৬ ভোট।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই বার তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ৬৬৫ ভোট। উপনির্বাচনে হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধান সেই সংখ্যাকে অনেকটাই ছাপিয়ে গিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রামে বিজেপির এই ফল রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগরেও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৭২ হাজার ৭১০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই কেন্দ্রের ফলও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হয়।

উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই বিজেপির জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, তৃণমূল ও বামেদের পক্ষে এই দুই কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ফল করা কঠিন হবে। সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ধর্মের ভিত্তিতে দেওয়া হয় না এবং তার প্রভাব ভোটেও পড়তে পারে।

এদিকে, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া, ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই দুই কেন্দ্রের ফলের রাজনৈতিক তাৎপর্য কতটা বিস্তৃত, তা বুঝতে আগামী দিনে বিভিন্ন এলাকার ভোটের প্রবণতা এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: Anubrata Mondal: আঙুল তুলে শাসানি, কলার ধরে হুমকি! নিজের কার্যালয়েই আক্রান্ত অনুব্রত