কলকাতা: গ্রেফতারির পর রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সম্পত্তির হিসাব ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের পাশাপাশি স্ত্রী মধুছন্দা সেনের আয়, নগদ অর্থ, বিনিয়োগ ও স্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য দিয়েছিলেন তিনি। সেই হিসাব অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেনের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২ কোটি ৩৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৩৫১ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৬২৪ টাকা।
ব্যাঙ্কে টাকা, শেয়ার ও সোনায় বিনিয়োগ
হলফনামা অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে ইন্দ্রনীল সেনের হাতে নগদ ছিল ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৪০ টাকা। তাঁর একাধিক সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও ফিক্সড ডিপোজিটে অর্থ জমা ছিল। পাশাপাশি ২৩টি ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের উল্লেখ রয়েছে। তাঁর কাছে ৩২ গ্রাম সোনা ছিল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। ২০০৮ ও ২০১৬ সালে কেনা দুটি গাড়ির তথ্যও হলফনামায় রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির তালিকায় কলকাতার গড়িয়াহাট ও কসবায় দুটি বাণিজ্যিক সম্পত্তির অংশ এবং দুটি ফ্ল্যাটের উল্লেখ রয়েছে। হলফনামায় ওই স্থাবর সম্পত্তিগুলির মোট বাজারমূল্য ৪ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার বেশি বলে জানানো হয়েছে।
স্ত্রী মধুছন্দার সম্পত্তির খতিয়ান
হলফনামা অনুযায়ী, মধুছন্দা সেনের অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৫১ লক্ষ ৭০ হাজার ৬৪২ টাকা। তাঁর হাতে নগদ ছিল ৮ হাজার ৪২০ টাকা। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের তথ্যও রয়েছে। এ ছাড়া হুগলির সিঙ্গুরে তাঁর জমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য ২ কোটি ৯ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর ১,৩৯৪ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ৬১ হাজার ১৫০ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সম্পত্তির হিসাব ২০২৬ সালের নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সম্পত্তি থাকা বা তার মূল্য উল্লেখ থাকা মানেই কোনও অনিয়মের প্রমাণ নয়। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: SCO summit 2026: অপারেশন সিঁদুরের দেড় বছর পর দিল্লির এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারতের