Ritabrata Banerjee: Speaker Rathindranath Basu to hear disqualification plea against Ritabrata Banerjee and nine rebel MLAs

Ritabrata Banerjee: ঋতব্রত-সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ককে নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত! বৃহস্পতিবার শুনানি ডাকলেন স্পিকার

The NewsNest Desk: তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার বড় পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের আবেদনের শুনানি ডাকলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। স্পিকারের ঘরেই এই শুনানি হওয়ার কথা।

শুনানিতে ঋতব্রত শিবিরের কয়েক জন বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেন। তাঁদের হয়ে আইনজীবীরাও থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের তরফে বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁর আইনজীবী শুনানিতে থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

এই শুনানি ঘিরে মূলত নজর রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমার দিকে। ঋতব্রত-সহ ১০ বিধায়কের পদ খারিজের আবেদন নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মামলাটির শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, বিধায়ক পদ খারিজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক এক্তিয়ার বিধানসভার স্পিকারের। শীর্ষ আদালত স্পিকারকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের পরই বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন স্পিকার।

বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে প্রকাশ্যে ফাটল দেখা দেয়। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ মোট ১০ জন বিধায়ক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন। নিজেদের পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন দাবি করে মূল তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক এবং তহবিলের উপর নিয়ন্ত্রণের দাবিও ওঠে। বিষয়টি গড়ায় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। কমিশন তৃণমূলের মূল নাম ও ‘ঘাসফুল’ প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের দাবি খতিয়ে দেখে আপাতত দুই পক্ষকে পৃথক নাম ও প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

এদিকে ১০ বিধায়কের পদ খারিজের দাবি নিয়ে আইনি লড়াইও চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট হয়, দলত্যাগ বা দলীয় অবস্থানের জেরে বিধায়ক পদ থাকবে কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব স্পিকারের। তবে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু দেশের বাইরে ছিলেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির স্পিকারদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি কেপটাউনে গিয়েছিলেন। পরে আটলান্টা ও লন্ডন সফর সেরে কলকাতায় ফেরেন। কলকাতায় ফেরার পর অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

এখন সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগেই শুনানি ডাকা হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানির পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।