Suvendu Adhikari attends Sudip and Nayana Banerjee’s Lakshmi Puja, calls the visit a gesture of courtesy amid political speculation.

Suvendu Adhikari ‘প্রধানমন্ত্রী যাঁকে ব্রেকফাস্ট করান, তাঁর বাড়ি যাওয়া সৌজন্য’, সুদীপ-নয়নার লক্ষ্মীপুজোয় গিয়ে নাড়ু খেলেন শুভেন্দু

The NewsNest Desk : লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাতে পদ্মফুলের ডালি ও মিষ্টি নিয়ে তালতলার বাড়িতে পৌঁছে পুজোয় অংশ নেন তিনি। দেবী লক্ষ্মীর দর্শন করার পাশাপাশি প্রসাদও গ্রহণ করেন। তবে এই সাক্ষাৎ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হতেই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, এর মধ্যে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ খোঁজা ঠিক নয়। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যাঁকে নিজের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রাতরাশ করান, তাঁর বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর নিমন্ত্রণ রক্ষা করাও সৌজন্যেরই অংশ।

‘বৌদি চারটে নাড়ু খেতে দিয়েছিলেন’

সুদীপ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে আপ্যায়নে মুগ্ধ শুভেন্দু। বিশেষ করে নয়নার হাতে তৈরি নারকেলের নাড়ুর কথা সাংবাদিকদের সামনে নিজেই জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বৌদি চারটে নাড়ু খেতে দিয়েছিলেন, তার মধ্যে থেকে দুটো নাড়ু খেয়েছি।”

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গেলেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, সুদীপ দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং তাঁর বাবার সমসাময়িক এক প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাই তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়াকে নিছক সৌজন্য হিসেবেই দেখা উচিত।

মোদীর সঙ্গে প্রাতরাশের প্রসঙ্গ টেনে কী বললেন শুভেন্দু?

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নিজে সুদীপকে নিজের বাসভবনে ডেকে প্রাতরাশ করিয়েছেন। এমন একজন প্রবীণ নেতার বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোর আমন্ত্রণ রক্ষা করার মধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য খোঁজা অনুচিত।

সুদীপের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, সুদীপ প্রতি বছরই তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতেন, কিন্তু আগের শাসকরা সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার পুরনো সৌজন্য ও রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতেই তাঁরা উদ্যোগী।

পুরভোটে জোটের জল্পনা, কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

আসন্ন পুরভোটের আগে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এই সাক্ষাৎ ঘিরে বিজেপি ও এনসিপিআইয়ের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী সেই জল্পনায় জল ঢালতে চেয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সফরের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি জাতীয় নেতৃত্ব, রাজ্য সভাপতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাই দেখবেন।

পূর্ববঙ্গের শিকড়, বাঙালি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ

লক্ষ্মীপুজোর আয়োজনের সঙ্গে বাঙালির চিরাচরিত সংস্কৃতির যোগও তুলে ধরেন শুভেন্দু। খই, তিলের নাড়ু, নারকেলের নাড়ু এবং নিরামিষ খিচুড়ির ভোগ—এই সবকিছুর মধ্যেই বাংলার উৎসবের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। সুদীপ ও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের মতো তাঁর মায়েরও পূর্ববঙ্গের শিকড় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সৌজন্য বজায় রাখা যায়—সুদীপ-নয়নার লক্ষ্মীপুজোয় শুভেন্দুর উপস্থিতিকে সেই বার্তাতেই ব্যাখ্যা করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা কতটা প্রভাব ফেলবে আগামী দিনের সমীকরণে, এখন সেদিকেই নজর।