The NewsNest Desk: ইতালির নামী ওয়াইনারি থেকে এক রাতেই উধাও প্রায় ৩০ হাজার বোতল ওয়াইন! বিপদঘণ্টি ও সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে পরিকল্পিতভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মুখোশ পরা সাত জন দুষ্কৃতী কারখানার ভিতরে ঢুকে বিপুল পরিমাণ ওয়াইন লুট করে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চুরি যাওয়া বোতলগুলির মূল্য কয়েক মিলিয়ন ইউরো বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে এখনও অভিযুক্তদের শনাক্ত করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতালির কর্টোনা এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত মার্চেসি আন্তিনোরি ওয়াইনারিকে নিশানা করেছিল দুষ্কৃতীরা। গত সপ্তাহান্তে শনিবার রাতে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার কারখানা বন্ধ থাকায় কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সোমবার রফতানির জন্য ওয়াইন তৈরির কাজে যোগ দিতে এসে তাঁরা দেখেন, কারখানা থেকে বিপুল সংখ্যক বোতল উধাও।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরির আগে কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থাকে অকেজো করে দেয় দুষ্কৃতীরা। বিপদঘণ্টি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নিষ্ক্রিয় করার পর তারা ভিতরে ঢুকে বোতলগুলি সরিয়ে নেয়। এর পর ওয়াইনারির নিজস্ব পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত যান ব্যবহার করে সেগুলি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ হাজার বোতল ওয়াইন চুরি হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ দামি ওয়াইন কীভাবে একসঙ্গে সরানো হল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুষ্কৃতীদের প্রত্যেকের মুখ ঢাকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাদের শনাক্ত করা তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুরি যাওয়া ওয়াইনের মধ্যে সোলাইয়া, টিনিয়েনেলো এবং গুয়াদো আল তাসোর মতো দামি ব্র্যান্ডের বোতল ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বোতলগুলির দাম প্রায় ১৫০ থেকে ৫০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। ফলে এই চুরিতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চুরি যাওয়া ওয়াইনের মোট মূল্য নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। তাই ক্ষতির নির্দিষ্ট অঙ্ক সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
মার্চেসি আন্তিনোরি ইতালির ওয়াইনশিল্পে পরিচিত একটি নাম। সংস্থাটির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে এত বড় চুরির ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইনারির দায়িত্বে রয়েছেন রেনজো কোটারেলা। চুরি যাওয়া ওয়াইনের বিপুল মূল্য ছাড়াও সংস্থাটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হল, বিমার আওতায় এই পরিমাণ ওয়াইন চুরির ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কারখানার ভিতরের নিরাপত্তাব্যবস্থা অকেজো করা হলেও আশপাশের রাস্তার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দুষ্কৃতীদের ব্যবহৃত যানগুলির গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে চুরি যাওয়া ওয়াইন কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। ইতালির ওয়াইনশিল্পে এর আগেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে পিডমন্টের বানফি ওয়াইনারি থেকে প্রায় ৩ হাজার বোতল আলতা লাঙ্গা চুরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় চুরি যাওয়া বোতলের সংখ্যা অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: Pakistan: ইমরানের দলের প্রাদেশিক সরকারে ইতি, খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারি