The NewsNest Desk: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য ফের সামনে এল H-1B ভিসা নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবার সরাসরি বলেছেন, H-1B ভিসা কর্মসূচি তাঁর মতে “সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে” এবং সুযোগ থাকলে তিনি এই কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করাকে সমর্থন করবেন। তাঁর অভিযোগ, প্রযুক্তি সংস্থা থেকে অ্যাকাউন্টিং ফার্ম—বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান H-1B ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে এবং এর ফলে মার্কিন কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে Vance বলেন, H-1B ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত উচ্চ দক্ষতার বিদেশি কর্মীদের আমেরিকায় নিয়ে আসা। কিন্তু কোনও মার্কিন কর্মীর পরিবর্তে কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করা হলে সেটিকে তিনি কর্মসূচিটির অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের নিয়োগ ঠেকানো না গেলে আমেরিকার শ্রমবাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতীয়দের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ H-1B?
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ। মার্কিন সরকারের USCIS-এর FY 2024-এর তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত H-1B পিটিশনের ৭১ শতাংশের সুবিধাভোগীর জন্ম ভারতে। অর্থাৎ H-1B ব্যবস্থায় ভারতীয় নাগরিকদের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই কর্মসূচির নিয়ম আরও কঠোর হলে বা ভবিষ্যতে এর কাঠামোয় বড় পরিবর্তন এলে আমেরিকায় যেতে চাওয়া কিংবা সেখানে কর্মরত ভারতীয় IT, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য বিশেষ দক্ষতার পেশাজীবীদের উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে যাঁদের মার্কিন সংস্থার মাধ্যমে H-1B স্পনসরশিপ প্রয়োজন, তাঁদের জন্য নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও জটিল বা ব্যয়বহুল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে H-1B কর্মসূচি এখনও বাতিল হয়নি। Vance-এর মন্তব্য মূলত তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামত। কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিল করতে হলে মার্কিন অভিবাসন আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। তাই তাঁর বক্তব্যকে সরাসরি নতুন আইন বা H-1B বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
$১ লক্ষ ফি নিয়েও চাপানউতোর
H-1B নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে নতুন ১ লক্ষ মার্কিন ডলারের ফি। ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট H-1B আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই অর্থ প্রদানের নিয়ম চালু করেছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এর ফলে কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা কমবে এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মীদের ক্ষেত্রে H-1B ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে।
কিন্তু এই ফি নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ১ অক্টোবর একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত প্রশাসনের ১ লক্ষ ডলারের ফি আটকে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নিয়ম মেনে ফি চালু করা হয়নি বলে প্রশ্ন ওঠে। এর আগে অন্য একটি আদালতের সিদ্ধান্তের পরও এই ফি নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। Vance অবশ্য এই ফি-কে H-1B ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতে প্রশাসনের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোনও সংস্থা যদি শুধু কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য H-1B ব্যবহার করতে চায়, তাহলে বিপুল ফি তাদের সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
নতুন নিয়মে আরও নজরদারি
H-1B ব্যবস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও কড়া নজরদারির পথও নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেপ্টেম্বরের একটি নির্বাহী নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দফতরগুলিকে H-1B আবেদন খতিয়ে দেখার সময় কোনও নিয়োগকর্তা একই ধরনের মার্কিন কর্মীকে সম্প্রতি ছাঁটাই করেছে কি না, তা বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রম দফতরকে আগের জমা দেওয়া শ্রম-শর্ত সংক্রান্ত আবেদনও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এর ফলে ভারতীয় IT কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু নতুন H-1B আবেদন নয়, মার্কিন সংস্থায় চাকরি, বেতন, স্পনসরশিপ এবং ভিসা নবীকরণের মতো বিষয়ও আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে H-1B নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। Vance-এর মন্তব্য, $১ লক্ষ ফি নিয়ে আদালতের মামলা এবং প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে মার্কিন অভিবাসন নীতিতে H-1B এখন গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্রে। আর ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য প্রশ্নটা শুধু একটি ভিসার নয়—আমেরিকার প্রযুক্তি ও পেশাদার শ্রমবাজারে তাঁদের ভবিষ্যৎ সুযোগের সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি যুক্ত।