পুজো ও উৎসবের মরসুমে নতুন টিভি, এসি, ফ্রিজ কিংবা ওয়াশিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাড়তি খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে দেশে একাধিক ভোগ্যপণ্য ও গৃহস্থালির বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে বিভিন্ন নির্মাণকারী সংস্থা। পিটিআই সূত্রে খবর, এয়ার কন্ডিশনারের দাম প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্য দিকে, কিছু সংস্থার ক্ষেত্রে এলইডি টিভি, ওয়াশিং মেশিন এবং রেফ্রিজারেটরের দাম ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন বাড়ছে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের দাম?
শিল্পমহলের বক্তব্য, কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় এবং মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তন—সব মিলিয়েই বাড়ছে উৎপাদন খরচ। বিশেষ করে তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত এবং অপরিশোধিত তেল থেকে তৈরি বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম তৈরিতে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে শিল্পকর্তাদের একাংশের বক্তব্য।
চলতি বছরে এই নিয়ে তৃতীয় দফায় দাম বাড়াতে চলেছে ভোগ্যপণ্য নির্মাণকারী সংস্থাগুলি। ফলে উৎসবের বাজারে চাহিদা বেশি থাকার সময়েই ক্রেতাদের আরও বেশি টাকা খরচ করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari ‘বিজেপি না জিতলে বাবা-মাকে ওড়িশায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম’, দাবি শুভেন্দুর
কোন পণ্যের দাম কতটা বাড়তে পারে?
প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এয়ার কন্ডিশনারের দামে। বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির কথা জানা গিয়েছে। হাইয়ার ১ অক্টোবর থেকে রুম এসির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছে। সংস্থাটি টিভি, ওয়াশিং মেশিন-সহ অন্যান্য পণ্যের দামও ২–৩ শতাংশ বাড়াতে পারে।
অন্য দিকে, কিছু নির্মাতা ওয়াশিং মেশিন, ফ্রিজ এবং এলইডি টিভির দাম ৩–৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সুপার প্লাসট্রনিক্স প্রাইভেট লিমিটেড, যারা ভারতে থমসন, কোডাক এবং ব্লাউপাঙ্কটের মতো টেলিভিশন ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করে, অক্টোবরের পর টিভির দাম প্রায় ৭ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
ব্লু স্টার, গোদরেজ অ্যাপ্লায়েন্সেস, হাইয়ার, ডাইকিন এবং সুপার প্লাসট্রনিক্স-সহ কয়েকটি সংস্থা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বা দাম বাড়িয়েছে। ডাইকিনের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি এসির দাম ৮–১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। তবে সব সংস্থা একই সময়ে দাম বাড়াচ্ছে না। প্যানাসনিকের মতো কিছু সংস্থা এখনও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
আরও পড়ুন : MrBeast রণবীরের সাহায্যে ‘জয় শ্রী রাম’ বললেন মিস্টারবিস্ট, ‘রামায়ণা’ অনুষ্ঠানে চমক
পুজোর বাজারে কি পুরনো দামে পণ্য মিলবে?
দাম বাড়লেও উৎসবের মরসুমে সঙ্গে সঙ্গে সব পণ্যের ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করছে শিল্পমহলের একাংশ। কারণ, অগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডিলার এবং পরিবেশকদের কাছে পুরনো দামে বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুত করা হয়েছে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরেও পুরনো দামের স্টক বাজারে থাকতে পারে।
গোদরেজের এক কর্তার মতে, বিভিন্ন সংস্থার ক্ষেত্রে ৫–৭ শতাংশের মতো দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরনো দামে মজুত থাকা পণ্যের কারণে উৎসবের মরসুমের বড় অংশে ক্রেতারা এখনও তুলনামূলক কম দামে কিছু পণ্য পেতে পারেন।
তবে নির্মাতাদের মধ্যে দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একাংশের আশঙ্কা, পণ্যের দাম বাড়লে উৎসবের বাজারে বিক্রির উপর চাপ পড়বে। অন্য অংশের মতে, পুরনো দামের স্টক এবং উৎসবকেন্দ্রিক অফারের কারণে তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। ফলে পুজোর আগে এসি, টিভি, ফ্রিজ বা ওয়াশিং মেশিন কেনার পরিকল্পনা থাকলে ১ অক্টোবরের আগের দাম এবং পরের দামের পাশাপাশি দোকানের অফার ও পুরনো স্টকের দামও তুলনা করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।