পুজোর পরেই বাংলায় ফের শুরু হতে চলেছে ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাতটি পুরসভা ও পুরনিগমে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, রাজ্য পুলিশের উপরই ভরসা রাখতে চাইছে কমিশন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক এবং জেলা পুরনির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। বৈঠকে ভোটের প্রস্তুতি, ওয়ার্ডের সীমানা, আসন সংরক্ষণ, ভোটার তালিকা, ইভিএম, ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকর্মী নিয়োগ-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হতে পারে।
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সূত্রের খবর, ২৭ থেকে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ভোট হতে পারে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি। নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত হতে পারে।
নিরাপত্তার প্রশ্নে কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে সাতটি পুরসভা ও পুরনিগমে রাজ্য পুলিশ দিয়েই ভোট করানোর পক্ষে কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে কোনও বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত আশঙ্কার তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি বলেও কমিশন সূত্রে খবর। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনে অতিরিক্ত খরচ এবং পরীক্ষার সময়ে স্কুলে বাহিনী রাখার সমস্যার কথাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
এদিকে ভোটের প্রস্তুতিও দ্রুত এগোচ্ছে। সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০টি বুথে ভোটগ্রহণের জন্য ৩৭ হাজারেরও বেশি ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। ইভিএমের প্রথম স্তরের পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা। কলকাতা ও হাওড়ার সংরক্ষিত আসনের তালিকা ৭ অক্টোবর এবং বাকি পাঁচ পুরসভার তালিকা ৬ অক্টোবর প্রকাশের নির্ধারিত রয়েছে।
আরও পড়ুন : Amarinder ‘আমার মতামতই চাওয়া হয় না’, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ অমরিন্দরের! ফের কি কংগ্রেসে ‘ক্যাপ্টেন’?
অর্থাৎ, পুজোর পর বাংলায় ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। এবার সেই ভোটে নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনী নাকি রাজ্য পুলিশ—শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।