কলকাতা: কাজের ব্যস্ততায় অনেকেই একসঙ্গে কয়েক দিনের মুরগির মাংস কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু চিকেন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাও খাবারের নিরাপত্তার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কাঁচা মাংস কতক্ষণ বাইরে রাখা যাবে, কোন তাকে রাখতে হবে এবং কীভাবে বরফ গলাতে হবে—এসব নিয়ম জানা জরুরি।
বাজার থেকে চিকেন কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব তা ফ্রিজে রাখা উচিত। সাধারণ তাপমাত্রায় কাঁচা মাংস দুই ঘণ্টার বেশি ফেলে রাখা নিরাপদ নয়। তাপমাত্রা বেশি থাকলে এই সময় আরও কমে যায়। তাই বাজার থেকে ফেরার পর মাংস পরিষ্কার করে দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করাই ভালো।
সাধারণ ফ্রিজের অংশে কাঁচা চিকেন সাধারণত এক থেকে দুই দিনের বেশি না রাখাই নিরাপদ। এক সপ্তাহের মতো সময়ের জন্য রাখতে হলে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রার ফ্রিজারে রাখা উচিত। একসঙ্গে অনেকটা মাংস একটি বড় পাত্রে না রেখে রান্নার প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগ করে বায়ুরোধী প্যাকেটে রাখলে সুবিধা হয়। এতে প্রয়োজনের পরিমাণটুকুই বের করা যায় এবং বারবার বরফ গলানোর প্রয়োজন পড়ে না।
আরও পড়ুন : Chicken Recipe: স্বাদের সঙ্গে আপস নয়, এই গরমে কম সময়ে ও কম উপকরণে বানিয়ে নিন দই চিকেন
চিকেন ডিফ্রস্ট করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। ফ্রিজার থেকে বের করে রান্নাঘরের স্ল্যাবে দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া ঠিক নয়। বরং রান্নার আগের দিন মাংস সাধারণ ফ্রিজের তাকে রেখে ধীরে ধীরে বরফ গলানো নিরাপদ পদ্ধতি। কাঁচা মাংসের পাত্রটি ফ্রিজের নিচের তাকে রাখলে তার রস অন্য খাবারের উপর পড়ে দূষণ ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।
রান্না করা চিকেনের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণের নির্দিষ্ট সময় মেনে চলা দরকার। সাধারণ ফ্রিজে রান্না করা মাংস সাধারণত তিন থেকে চার দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। রান্না করা খাবার সংরক্ষণের সময় ছোট পাত্রে ভাগ করে দ্রুত ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখা সুবিধাজনক।
খাওয়ার আগে সংরক্ষিত চিকেন ভালোভাবে গরম করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখার পর মাংসের রং, গন্ধ বা গঠন অস্বাভাবিক মনে হলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ। সামান্য সতর্কতা মেনে চললেই চিকেনের স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখার পাশাপাশি খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও কমানো যায়।
আরও পড়ুন : Indian Food: জানুন মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী খামিরি রুটির ইতিহাস: কোথায় পাবেন কলকাতায়?