Rahul Gandhi demands CEC Gyanesh Kumar’s resignation amid Election Commission row

Election Commission : রাহুলের নিশানায় CEC জ্ঞানেশ কুমার, পদত্যাগ দাবি করে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ার পরামর্শ

The News Nest:  নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের(CEC Gyanesh Kumar) পদত্যাগ দাবি করলেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ভিত নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। জ্ঞানেশ কুমারকে ‘রাজসাক্ষী’ হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল বলেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ‘মৌলিক ভাবে ভেঙে পড়েছে’। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না-থাকার সমস্যা নয়, এর সঙ্গে দেশের সাংবিধানিক কাঠামোও জড়িত। তবে এগুলি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের অভিযোগ; নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়।

রাহুলের এই আক্রমণের পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission)অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সাম্প্রতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। আপত্তিগুলির মধ্যে ছিল নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ভোটার তালিকার তথ্যভাণ্ডারে রাজ্যস্তরের আধিকারিকদের প্রবেশাধিকার এবং ‘এসআইআর’ বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক বিষয়।

 ‘SIR কী এবং কেন তা নিয়ে এত বিতর্ক?’

বিশেষ করে ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি সামনে এসেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা ভোটার তথ্যভাণ্ডার ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলেছিলেন। গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত সফটওয়্যারে নথিভুক্ত করা না যাওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধী এই ঘটনাগুলিকেই তাঁর ‘ভোট চুরি’ অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে তার প্রভাব পড়তে পারে আইনসভা ও পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও।

 ‘ভোটার তালিকা কী ভাবে সংশোধন হয়? ERO, ECINet ও SIR-এর ভূমিকা কী?’

নির্বাচন কমিশনের অবশ্য বক্তব্য, কমিশনের ভিতরে বিভিন্ন মতামত বা আপত্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। কমিশন জানিয়েছে, গত এক বছরে ভোটার তালিকা সংশোধন-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে।

রাহুলের সাংবাদিক বৈঠকে ২০২৩ সালের সেই আইন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যার মাধ্যমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। বর্তমানে নিয়োগ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রয়েছেন। রাহুল অতীতে এই কাঠামো নিয়ে নিজের আপত্তির কথাও জানিয়েছিলেন।

‘নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বর্তমান পদ্ধতি কী?’

রাহুল আরও বলেন, ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁর আপত্তি নতুন নয়। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক ও হরিয়ানার ভোটার তালিকা নিয়েও তিনি অতীতে প্রশ্ন তুলেছেন। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে যে সমস্যাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি নিয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

এদিকে বিরোধী শিবিরের অন্য দলগুলিও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর স্থগিত করার দাবি তুলেছে। পাঁচটি বাম দল নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতিতে ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও নির্বাচন কমিশন ও ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে নির্বাচন কমিশনের পাল্টা বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন জানিয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদনে কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নোটকে আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে; বৃহত্তর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পূর্ণ কমিশনের সম্মতিই রয়েছে। ফলে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নও আরও জোরালো হতে পারে।