Holiest Islamic Cities: Does Houthis want control over holiest Islamic cities Mecca and Medina by attacking Saudi Arabia

Holiest Islamic Cities: আলোচনায় ১,৪০০ বছরের বিবাদ! পবিত্র মক্কা-মদিনার দখল নিতেই কি ‘ধর্মযুদ্ধ’ হুথিদের ?

রিয়াধ: ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। সৌদি আরবের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ভূপাতিত করা হয়। তাঁর দাবি, ২০১৭ সালের পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। তাদের বক্তব্য, মক্কা বা কোনও ধর্মীয় স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি রয়েছে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ফের তীব্র হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, হুথিরা দেশের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের আগের হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন সাধারণ মানুষ আহত হওয়ার কথাও জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

মক্কা-মদিনার নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস অবশ্য বর্তমান শিয়া-সুন্নি সংঘাতের চেয়েও অনেক পুরনো এবং জটিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগের পর বিভিন্ন খিলাফত ও স্থানীয় শাসকগোষ্ঠীর হাতে পবিত্র শহরগুলির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বদলেছে। অষ্টম শতক থেকে আব্বাসীয়দের প্রভাব, পরে স্থানীয় শরিফদের শাসন এবং ১৫১৭ সালের পর অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনস্থতা—সব মিলিয়ে হেজাজের রাজনৈতিক ইতিহাস বহুবার বদলেছে।

আরও পড়ুন: ৯৯.৮৫% ভোট পেয়ে পঞ্চম মেয়াদে চেচনিয়ার প্রধান রমজান কাদিরভ

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর হেজাজ স্বল্প সময়ের জন্য স্বাধীন রাজ্য হিসেবে ছিল। শেষ পর্যন্ত আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের বাহিনী ১৯২৪-২৫ সালে মক্কা-মদিনা দখল করে এবং পরবর্তী সময়ে এই অঞ্চল সৌদি রাষ্ট্রের অংশ হয়ে যায়। ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আধুনিক সৌদি আরব।

পবিত্র শহরগুলি এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়েছে। ৯৩০ সালে কারমাতীয়রা মক্কা লুঠ করে কাবার হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায় বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে জুহায়মান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা মসজিদুল হারামে ঢুকে পড়লে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই মক্কার নিরাপত্তা শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের সংবেদনশীল প্রশ্ন। সৌদি দাবির পর ওআইসি-সহ একাধিক মুসলিম দেশ ও সংগঠন পবিত্র শহরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

মক্কা-মদিনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইতিহাসে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকলেও, বর্তমান হুথি-সৌদি সংঘাতকে সরাসরি ১,৪০০ বছরের একটানা শিয়া-সুন্নি ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে দেখা ইতিহাসকে অতিরিক্ত সরল করে ফেলে। তবে পবিত্র শহরের আশপাশে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘর্ষ শেষ পর্যন্ত কত দূর গড়াবে?