নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্যের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু ও বিবেক জোশী। এর মধ্যে একই দিনে চার বার আপত্তি জানান তাঁরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর, নতুন ভোটারের নাম তোলা, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। নতুন ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ এসআইআর-সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দুই কমিশনার। জোশী মে মাসে এবং সাঁধু পরে এই পরিবর্তনকে নিয়মসঙ্গত নয় বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আপত্তি উঠে এসেছে। দুই কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে যে ব্যবস্থায় নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেখানে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর পর ভোটার তালিকায় নাম বাদ দেওয়া ও পুনরায় নাম তোলার আবেদন নিয়েও তাঁদের প্রশ্ন ছিল।
তবে এই অভিযোগের পাল্টা বক্তব্যও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সূত্রের দাবি, এসআইআর-সহ কমিশনের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিন নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদনেই এবং সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে ধরনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ছবি উঠে এসেছে, কমিশন তা মানছে না।
তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে এই বিতর্ক তাই ভোটার তালিকা সংশোধন এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।