The NewsNest Desk: বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি। নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। শুক্রবার নরওয়ের নোবেল কমিটি তাঁর নাম ঘোষণা করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময়ে নেলসন ম্যান্ডেলের হয়ে আইনি লড়াইয়েও যুক্ত ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার প্রধান-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব সামলেছেন এই আইনজীবী ও বিচারপতি।
নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। তাঁর পরিবার ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত। বর্ণবিদ্বেষের পরিবেশে বেড়ে ওঠা পিল্লাই নিজের কর্মজীবনে বারবার বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। আইনের জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষাকে তিনি নিজের কাজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করে তোলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি একটি আইন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এর চার বছর পরে, ১৯৯৯ সালে, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ওই ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্বও সামলান।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার হাইকমিশনার ছিলেন তিনি। ওই পদে থাকাকালীন বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বৈষম্য এবং নিপীড়নের মতো বিষয়গুলি আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। প্যালেস্টাইন ইস্যুতেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত প্যালেস্টাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্ব করেন তিনি। পাশাপাশি, ২০১৯ সালে মায়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অ্যাডহক বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
নাভি পিল্লাইয়ের এই দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে তাঁর ভূমিকার পরিচয় বহন করে। বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালত এবং রাষ্ট্রপুঞ্জে দায়িত্ব পালন—তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি দিয়েছে। চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ সুইডিশ ক্রোনা। আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মানবাধিকার রক্ষায় আরও দায়বদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুরস্কার ঘোষণার পর রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দপ্তরের তরফে তুলে ধরা হয়েছে।