কিয়েভ: ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে ভয়াবহ রুশ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বরাতজোরে এই বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইউরোপের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকরা। কিয়েভে একটি সম্মেলন শেষ করে কূটনৈতিক ট্রেনে করে ফেরার ঠিক কিছুক্ষণ পরেই ইউক্রেনের ইয়াহোদিন এলাকায় এই হামলা চালায় রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার মাত্র ১৫ মিনিট আগে বরিস জনসনদের বহনকারী ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলে যায়। তবে এর পরেই ওই রেলপথে থাকা অন্য একটি ট্রেনের ইঞ্জিন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে জেটচালিত ড্রোন দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। সৌভাগ্যবশত এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা অন্য একটি ট্রেনে প্রাক্তন সিআইএ প্রধান ডেভিড পেট্রাউসও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যম এক্সে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিস জনসন পুতিনের সমালোচনা করেছেন এবং ইউক্রেনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা এই হামলাকে বর্বর আখ্যা দিয়ে মস্কোর ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের আকাশপথ বন্ধ থাকায় রেল নেটওয়ার্কই কোটি কোটি মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। আর সেই রেল পরিকাঠামোকেই এখন প্রধান লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী।