The NewsNest Desk : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে নতুন একটি প্রোটেস্ট্যান্ট গির্জার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। শনিবার বিকেলে নারায়ণতলার ওই গির্জায় একদল লোক হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা গির্জা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোর করে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ তুলে বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী-সহ একাধিক যাজক ও উপাসকের উপর চড়াও হয় বলে দাবি। মারধরের পাশাপাশি মহিলাদেরও হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়া বা সিএনআই-এর অধীনস্থ ওই গির্জার উদ্বোধন উপলক্ষে শনিবার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রতিবেশী এলাকার একাধিক গির্জার যাজক এবং বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলায় পৌঁছেছিলেন। সেই সময়ই একদল লোক সেখানে ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ। তাদের সঙ্গে দক্ষিণপন্থী সংগঠনের যোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ, গির্জা কর্তৃপক্ষ জোর করে ধর্মান্তকরণ করাচ্ছে—এই দাবি তুলে হামলাকারীরা যাজক ও উপাসকদের মারধর করে। এমনকি মহিলাদের পরনে থাকা ঐতিহ্যবাহী শাঁখা খুলে ফেলতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ। পরে তাঁদের গির্জা চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনায় বিশপ, যাজক এবং সাধারণ উপাসকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
ঘটনার ছবি বা ভিডিয়ো রেকর্ড করার চেষ্টা করেছিলেন যাঁরা, তাঁদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কয়েকটি ফোন ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি উঠেছে। ফলে হামলার সময়কার দৃশ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর প্রতিবাদে সরব হয়েছে বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা বা বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষদ (বিসিপি)। সংগঠনটির দাবি, বাংলায় সিএনআই পরিচালিত গির্জার কোনও শাখায় এই ধরনের হামলার ঘটনা আগে ঘটেনি। সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি হেরোড মল্লিক হামলার নিন্দা করে অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে সংগঠিত দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলি আরও সাহস পাচ্ছে। বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর এই ধরনের হামলার ঘটনা বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
তবে ধর্মান্তকরণের অভিযোগের বিষয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
গির্জার উদ্বোধনের মতো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই হামলার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ, হামলায় কারা জড়িত এবং ধর্মান্তকরণের অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে।