The NewsNest Desk : সপ্তাহের প্রথম দিনেই চাঙ্গা ভারতীয় শেয়ারবাজার। সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই এক ধাক্কায় ৭৬৪ পয়েন্টের বেশি বাড়ল সেনসেক্স। অন্যদিকে, নিফটিও ২৩,২৫০-এর গণ্ডি পেরিয়ে গেল। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের বড়সড় উত্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার জেরেই বাজারে এই ইতিবাচক প্রবণতা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার সকালে ৩০টি সংস্থার শেয়ার নিয়ে গঠিত বিএসই সেনসেক্স ৭৬৪.৭২ পয়েন্ট বেড়ে পৌঁছয় ৭৫,২১৬.৮০ পয়েন্টে। একই সময়ে ৫০টি সংস্থার শেয়ার নিয়ে গঠিত এনএসই নিফটি ২০১.৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ২৩,২৫৫.৯০ পয়েন্টে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা এবং এশিয়ার বিভিন্ন বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও ভারতীয় বাজারকে চাঙ্গা করেছে।
সোমবারের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ। সংস্থার শেয়ারের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটি রেকর্ড ২৯,৫৫০ কোটি টাকা মুনাফার কথা ঘোষণা করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফার পরিমাণ বেড়েছে ৩৩.৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মার্জিন বৃদ্ধি এবং টেলিকম ব্যবসার সম্প্রসারণ সংস্থার লাভের অঙ্ক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। যদিও খুচরো ব্যবসার ফলাফল তুলনামূলক ভাবে কিছুটা ম্লান ছিল।
রিলায়্যান্সের পাশাপাশি সোমবার সকালে বেশ কয়েকটি বড় সংস্থার শেয়ারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। এনটিপিসি, টাটা স্টিল, পাওয়ার গ্রিড, মারুতি এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শেয়ার ছিল লাভের তালিকায়। তবে সান ফার্মা, টেক মহিন্দ্রা, টাইটান এবং ইনফোসিসের শেয়ারে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গিয়েছে।
বাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতির পিছনে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম কমাকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে নেমেছে। গত সপ্তাহে এই দাম ১১৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। ভারতের মতো অপরিশোধিত তেল আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমা অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হতে পারে।
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি কে বিজয়কুমারের মতে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমার পাশাপাশি আমেরিকার ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড ৪.৯৩ শতাংশে নেমে আসাও বাজারের পক্ষে ইতিবাচক। তাঁর আরও বক্তব্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কেন্দ্রিক বিনিয়োগের প্রবণতা কিছুটা দুর্বল হওয়াও ভারতের বাজারের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে। গত শুক্রবার এআই-সংক্রান্ত শেয়ারে দুর্বলতার জেরে নাসডাক সূচক ২.৮ শতাংশ পড়েছিল।
এদিকে, শুক্রবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ারবাজারে মোট ৩,৫৯৮.৫৪ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছেন। এশিয়ার বাজারগুলিতেও সোমবার ইতিবাচক ছবি দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি, জাপানের নিক্কেই ২২৫, চিনের সাংহাই কম্পোজিট এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। যদিও গত শুক্রবার আমেরিকার শেয়ারবাজারে বড়সড় পতন হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবারও ভারতীয় বাজার লাভের মুখ দেখেছিল। সেনসেক্স ৩০৮.৪৯ পয়েন্ট বা ০.৪২ শতাংশ বেড়ে ৭৪,৪৫৯.৫৩ পয়েন্টে বন্ধ হয়। নিফটি বেড়েছিল ১১৬.৩৫ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে সেই ঊর্ধ্বগতিই আরও জোরালো হল।