The NewsNest Desk : কালীপুজোর আগে অবৈধ বাজি বিক্রি এবং শব্দদূষণ রুখতে কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজি তৈরি, বিক্রি ও পোড়ানোর ক্ষেত্রে নিয়ম মানার বিষয়ে সতর্ক করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, অবৈধ বাজির বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হবে। শব্দবাজির দাপট নিয়ন্ত্রণে খুলছে বিশেষ কন্ট্রোলরুমও। নিয়ম ভেঙে শব্দদূষণ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
অবৈধ বাজি বিক্রি রুখতে নজরদারি
বৃহস্পতিবার সকালে নবান্নে কালীপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। বৈঠকে অবৈধ বাজি বিক্রি বন্ধ করা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎসবের দিনগুলিতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলি গুরুত্ব পায়।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাজি বাজারগুলিতে নজরদারি চালাবে পুরসভা। বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ বাজি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বাজি উদ্ধার হলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যেখানে বাজি তৈরি হয়, সেই এলাকাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বাজি তৈরি বা বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হাসপাতালের কাছে শব্দবাজি নয়
কালীপুজোর দিন শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার উপর জোর দিয়েছে প্রশাসন। হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে শব্দবাজি পোড়ানো যাবে না বলে জানানো হয়েছে। সাইলেন্স জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতেও শব্দবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি, অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যে বাজি পোড়ানোর নিয়ম মানতে হবে।
শব্দদূষণের কারণে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু, প্রবীণ এবং সাধারণ মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকে নজর রাখতেই এই পদক্ষেপ। প্রশাসনের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের অসুবিধা বা বিপদের কারণ না হয়ে ওঠে।
অভিযোগ জানাতে বিশেষ কন্ট্রোলরুম
শব্দবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর জন্য নবান্নের তরফে একটি বিশেষ কন্ট্রোলরুম খোলার কথা জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে যে কোনও সময় অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কন্ট্রোলরুমের হেল্পলাইন নম্বর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
শব্দদূষণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে নিয়মভঙ্গের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে গ্রেফতারিও করা হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে সতর্ক করা হয়েছে।
‘আনন্দ করুন, কাউকে বিপদে ফেলবেন না’
স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে জানিয়েছেন, কালীপুজোয় আনন্দ করার পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তা ও স্বস্তির কথাও মাথায় রাখতে হবে। সব দায়িত্ব পুলিশের উপর ছেড়ে না দিয়ে নাগরিকদের নিজেদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রশাসনের মতে, কেবল পুলিশি নজরদারি দিয়ে শব্দদূষণ বা অবৈধ বাজির সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মানুষের সহযোগিতা এবং নিয়ম মেনে চলার মানসিকতাও জরুরি। বাজি পোড়ানো ছাড়াও উৎসব উদ্যাপনের নানা উপায় রয়েছে বলে মনে করিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব।
কালীপুজোর আগে নবান্নের এই বার্তায় স্পষ্ট, অবৈধ বাজি বিক্রি, শব্দদূষণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিভঙ্গের ক্ষেত্রে এ বার নজরদারি আরও জোরদার করতে চাইছে প্রশাসন। তবে ঘোষিত কন্ট্রোলরুমের হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশের পরই অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট যোগাযোগের ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।