Reliance proposes nuclear power plant in Bengal with potential investment of Rs 2 lakh crore

Reliance: বঙ্গে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাব রিলায়েন্সের, বিনিয়োগ হতে পারে ২ লক্ষ কোটি

The NewsNest Desk: পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। রাজ্যে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। সরকারি সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুরের হরিপুরে এই প্রকল্প গড়ে উঠলে ছয় থেকে সাত বছরে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ আসতে পারে। বুধবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও বৈঠক করেন রিলায়েন্সের শীর্ষ কর্তারা।

হরিপুরের নাম সামনে আসায় প্রস্তাবিত প্রকল্প ঘিরে পুরনো স্মৃতিও ফিরে এসেছে। প্রায় ১৫ বছর আগে একই এলাকায় ১ হাজার মেগাওয়াটের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া বা এনপিসিআইএল। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় সেই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় মৎস্যজীবী ও গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের জেরে ২০১১ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে।

সরকারি সূত্রের দাবি, হরিপুরে এনপিসিআইএলের জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমি আগে থেকেই চিহ্নিত ও অনুমোদিত ছিল। প্রকল্প বাতিল হওয়ার আগে সেখানে ভূমিকম্প, মাটি, জল, সমুদ্র, আবহাওয়া, পরিবেশ ও জনসংখ্যা সংক্রান্ত একাধিক সমীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে নতুন করে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে ওই জমিতে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তবে অতীতে হরিপুরে স্থানীয়দের বিরোধিতার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের তরফে হলদিয়ার কাছে নয়াচরের বিকল্প জমির কথাও রিলায়েন্সকে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সংস্থাটি অবশ্য হরিপুরেই প্রকল্প তৈরিতে বেশি আগ্রহী।

শুধু পরমাণু বিদ্যুৎ নয়, বাংলায় একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে রিলায়েন্স। কলকাতা, পাহাড় এবং সুন্দরবনে হোটেল তৈরির পাশাপাশি নিউ টাউনে ডেটা সেন্টার তৈরির কাজও এগোচ্ছে। ৪০ একর জমির মধ্যে ১৫ একর অংশের কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। পুরো ডেটা সেন্টার আগামী বছরের জুনের মধ্যে চালু করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি। এছাড়া কয়লা গ্যাসিফিকেশন নিয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে রিলায়েন্স। দেওচা-পাচামি-সহ পশ্চিমাঞ্চলের পরিত্যক্ত কয়লাখনিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে নবান্নের বৈঠকে ডেটা সেন্টার, আন্তর্জাতিক কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, ফুড পার্ক, রাস্তা এবং হাসপাতাল-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।