India Successfully Tests Indigenous Pralay Missile: A Major Boost to Defence Capabilities

Pralay Missile শত্রুপক্ষের চিন্তা বাড়িয়ে সফল প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা! দেশীয় প্রযুক্তিতে আরও শক্তিশালী ভারত

The NewsNest Desk : আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে আরও এক বড় পদক্ষেপ ভারতের! দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ওড়িশা উপকূলের ডক্টর এপিজে আবদুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরীক্ষার সাফল্যে খুশি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

নির্ধারিত সমস্ত লক্ষ্য পূরণ, সফল প্রলয়ের পরীক্ষা

ডিআরডিও-র তৈরি প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের এই পরীক্ষা ছিল ইউজার ইভ্যালুয়েশন ট্রায়ালের অংশ। অর্থাৎ, সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির আগে অস্ত্রব্যবস্থাটির কার্যকারিতা ও সক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার সময় সমস্ত নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে মোতায়েন বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যেও পরীক্ষার সাফল্য নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সমাজমাধ্যমে পরীক্ষার সাফল্যের কথা জানিয়ে ডিআরডিও, সশস্ত্র বাহিনী এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থাগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র দেশের সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম

প্রলয় একটি স্বদেশি, সারফেস-টু-সারফেস কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা প্রায় ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ, দূরবর্তী শত্রু ঘাঁটি, সামরিক পরিকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বিশেষত্ব হল এর উড়ানের ধরন। সাধারণ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ না করে কোয়াসি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উড়ানের সময় গতিপথে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে একে শনাক্ত করে আটকানো তুলনামূলক কঠিন হতে পারে।

সলিড প্রপেল্যান্ট প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে উন্নত গাইডেন্স ও নেভিগেশন ব্যবস্থা। বিভিন্ন ধরনের প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করার সক্ষমতাও রয়েছে এর। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর পেলোড বহনের ক্ষমতা ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রলয়

প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে হায়দরাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারত। ডিআরডিও-র অন্যান্য গবেষণাগারও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড এই ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

এই প্রকল্পের সফল অগ্রগতি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে স্থলভাগ থেকে নির্ভুলভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে প্রলয় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পথ আরও প্রশস্ত

প্রলয়ের সফল ইউজার ইভ্যালুয়েশন ট্রায়ালের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই অস্ত্রব্যবস্থা সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পথে আরও এগিয়ে গেল। অর্থাৎ, পরীক্ষার এই সাফল্য শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বাস্তব সামরিক ব্যবহারের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশীয় গবেষণায় জোর দিয়েছে ভারত। আকাশ, স্থল ও সমুদ্র—তিন ক্ষেত্রেই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রলয়ের সফল পরীক্ষা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য পূরণে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু অস্ত্রের সংখ্যা নয়, প্রযুক্তি, নির্ভুলতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতাই যে সামরিক শক্তির অন্যতম মাপকাঠি, প্রলয়ের সাফল্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে আনল।