ছবির শুটিং চলাকালীনই অস্বস্তি হয়েছিল। মনে হয়েছিল, নারী চরিত্রকে যেভাবে পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও জোরালো প্রতিবাদ করা উচিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান নিতে পারেননি। এ বার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই অনুতাপ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর। ‘পেদ্দি’ ছবিতে নারী চরিত্রের উপস্থাপনা এবং সম্মতির বিষয়টি যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গে জাহ্নবীর স্বীকারোক্তি, এই অপরাধবোধ তাঁকে দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াতে হবে।
সম্প্রতি কর্ণ জোহরের সঞ্চালনায় ‘কফি উইথ কর্ণ ৯’-এর একটি পর্বে হাজির হয়েছিলেন জাহ্নবী। সেখানেই ‘পেদ্দি’ ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে কথা বলেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, ছবির কয়েকটি দৃশ্যে নারী চরিত্র আচিয়াম্মাকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সমস্যাজনক। এমনকি ছবির বয়ান যৌন নির্যাতনকে প্রশ্রয় দিয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
রাম চরণের বিপরীতে বুচি বাবু সানা পরিচালিত ‘পেদ্দি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন জাহ্নবী। ছবিতে আচিয়াম্মা চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে মুক্তির পর থেকেই দর্শকের একাংশের আপত্তি ছিল। অভিযোগ ওঠে, চরিত্রটিকে স্বতন্ত্র মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিবর্তে কয়েকটি দৃশ্যে তাঁর শরীরের উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সম্মতির বিষয়টি যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল একটি চুম্বনদৃশ্য। ছবিতে পেদ্দি আচিয়াম্মার প্রতি নিজের আকর্ষণের কথা জানালেও আচিয়াম্মা তাতে আগ্রহী ছিলেন না। পরে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় তাঁর সম্মতি ছাড়াই পেদ্দি তাঁকে চুম্বন করে। এই দৃশ্য ঘিরেই সিনেমায় নারীর উপস্থাপনা এবং সম্মতির গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
কর্ণ জোহর জাহ্নবীকে প্রশ্ন করেন, ছবিটি নিয়ে সমালোচনা কীভাবে সামলেছেন এবং ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন। উত্তরে অভিনেত্রী জানান, বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রথমে দ্বিধায় ছিলেন। কারণ, ছবিটির সঙ্গে বহু মানুষের পরিশ্রম জড়িয়ে ছিল। কিন্তু নারী এবং সমাজের উপর এমন গল্পের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব উপেক্ষা করাও তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
জাহ্নবীর কথায়, ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি তাঁকে অপরাধবোধে ভোগায়। তাঁর বক্তব্য, “এই ধরনের গল্প আমাদের সমাজের উপর, বিশেষ করে নারীদের উপর যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা ভেবে আমার অপরাধবোধ হয়। এই লজ্জা আমাকে চিরকাল বয়ে বেড়াতে হবে।”শুটিংয়ের সময় আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলেও মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, নারীকে বস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল কি না, কিংবা ছবির বয়ান যৌন নির্যাতনকে প্রশ্রয় দিয়েছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার জায়গা নেই। জাহ্নবীর বক্তব্য, এ ক্ষেত্রে তাঁর আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।
নিজের সিদ্ধান্তের দায় অন্যের উপর চাপাতে চান না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে শুটিং চলাকালীন পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, পরিচালকের নির্দেশের মধ্যেই থেকে দৃশ্যগুলিকে যতটা সম্ভব কম সমস্যাজনক করার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, আরও জোর দিয়ে আপত্তি জানানো প্রয়োজন ছিল।
নিজের সামাজিক অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধার কথাও স্বীকার করেছেন জাহ্নবী। তাঁর মতে, বলিউডে তিনি যে জায়গায় রয়েছেন, তা কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলির বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রশ্ন তুলতে পারতেন। সেই সুযোগ ব্যবহার না করার জন্যও নিজের উপর ক্ষুব্ধ তিনি।
‘পেদ্দি’ বিতর্ক নিয়ে সমাজমাধ্যমে হওয়া আলোচনা প্রসঙ্গে জাহ্নবী সংক্ষেপে জানিয়েছেন, তিনি খুশি। তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ছবিতে নারীর উপস্থাপনা ও সম্মতির মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান জানানোই তাঁর লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: Sreelekha Mitra মেয়েকে পাশে নিয়ে লক্ষ্মীপুজো শ্রীলেখার, দেবীর কাছে নিজের জন্য কী চাইলেন অভিনেত্রী?