The NewsNest Desk : জাঁকজমক নয়, ভক্তিই তাঁর পুজোর আসল কথা। তাই প্রতি বছরের মতো এ বারও ঘরোয়া আয়োজনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। তবে এ বারের পুজোয় রয়েছে বাড়তি আনন্দ। কারণ, মেয়ে ঐশী এসেছেন তাঁর কাছে। মাকে সঙ্গে নিয়েই পুজোর দিনটি কাটাবেন তিনি। ছোট্ট আয়োজনের মধ্যেই দেবীর কাছে নিজের মনের কথাগুলি জানাতে চান অভিনেত্রী।
আলপনায় ভুল, তবু চেষ্টা থামান না শ্রীলেখা
বাঙালির লক্ষ্মীপুজো মানেই ঘরের মেঝেতে আলপনা, ধানের শিষ আর দেবীর ছোট ছোট পায়ের ছাপ। শ্রীলেখাও প্রতি বছর নিজের হাতে আলপনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। যদিও নিজের আঁকার দক্ষতা নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী নন তিনি।
অভিনেত্রীর কথায়, একবার তাঁর আঁকা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ দেখে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেন, সেটি ইংরেজিতে ‘৫২’ লেখা কি না! সেই মজার অভিজ্ঞতা আজও মনে রয়েছে তাঁর। তবে তাতে আলপনা দেওয়ার উৎসাহ কমেনি। এ বারও লক্ষ্মীর পা আঁকার চেষ্টা করবেন তিনি। তাঁর আশা, ছোট ছোট পায়ে দেবী যেন তাঁর বাড়িতে আসেন, আলো করে আসেন সকলের ঘরেও।
বাড়িতে ছোট আয়োজন, ফিরছে পুরনো রীতি
একসময় শ্রীলেখার বাড়িতে পুজোর নাড়ু ও মিষ্টি তৈরি হত। এখন গৃহসহায়িকার বয়স হয়েছে, আর নিজেও এই কাজে খুব একটা পটু নন অভিনেত্রী। তাই বেশির ভাগ মিষ্টিই দোকান থেকে কিনে আনেন। তবে এ বার পুরনো একটি রীতি ফিরিয়ে আনার কথা ভেবেছেন তিনি। আগে বাড়িতে সরায় পুজো হত, এ বারও সেই নিয়মে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
শ্রীলেখার কাছে পুজোর গুরুত্ব আয়োজনের আড়ম্বরে নয়, বরং আন্তরিকতায়। বাড়িতে মেয়ে, দীর্ঘদিনের গৃহসহায়িকা এবং দেবীর আরাধনা—এতেই খুশি অভিনেত্রী।
লক্ষ্মীর কাছে কী প্রার্থনা শ্রীলেখার?
এ বারের লক্ষ্মীপুজোয় শ্রীলেখার চাওয়া শুধু নিজের সুখ-সমৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়। চারপাশের অশান্তি, হিংসা ও নানা বেদনাদায়ক ঘটনা তাঁকে ভাবায়। তাই দেবীর কাছে তাঁর প্রার্থনা, মানুষ যেন একটু শান্তিতে থাকতে পারেন, সকলে যেন ভাল থাকেন।
নিজের সুস্থতা নিয়েও বিশেষ প্রার্থনা রয়েছে অভিনেত্রীর। কারণ, পথের ও আশ্রয়হীন চারপেয়ে প্রাণীদের জন্য কাজ করতে চান তিনি। নিজে সুস্থ না থাকলে সেই কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তাই যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন যেন সুস্থ থেকে প্রাণীদের পাশে দাঁড়াতে পারেন—দেবীর কাছে সেই কামনাও করবেন শ্রীলেখা।
অর্থাৎ, অভিনেত্রীর কাছে এ বারের লক্ষ্মীপুজোয় প্রার্থনার বিষয় শুধু ধনসম্পদ নয়। মানুষের শান্তি, নিজের সুস্থতা এবং অবলা প্রাণীদের জন্য কাজ করে যাওয়ার শক্তিই তাঁর কাছে বড় চাওয়া। ছোট্ট ঘরোয়া পুজোর মধ্যেই তাই নিজের বিশ্বাস ও ভালবাসার জায়গাগুলিকে তুলে ধরতে চান শ্রীলেখা।