Nagpur: Congress Wins Nagpur MLC Seat: BJP suffers a setback in the RSS stronghold as Congress hits back at PM Narendra Modi over his election jibe.

Nagpur: মোদীর কটাক্ষের পর নাগপুরে কংগ্রেসের জয়, সংঘের দুর্গে হার বিজেপির!

The NewsNest Desk : রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর নাগপুরে জয় ছিনিয়ে নিয়ে কংগ্রেসের মুখরক্ষা! বিধান পরিষদ নির্বাচনে চার রাজ্যের ২৮টি আসন ঘিরে যখন কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি, তখন মহারাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় দলের কাছে বড় স্বস্তি হয়ে উঠল। বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালেকে ৩,২৭১ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াংজারি। আর সেই জয়ের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েছে কংগ্রেস, ‘বলুন তো, নাগপুরে কে জিতল?’

কংগ্রেসকে খোঁচা মোদীর, পাল্টা জবাব নাগপুরে

উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার ও কর্নাটকের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনের ফল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল গণনার মাঝেই। অধিকাংশ আসনের ফল প্রকাশ্যে আসার পর কংগ্রেসের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা। বুধবার সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদীও কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, চারটি বড় রাজ্যের ২৮টি বিধান পরিষদ আসনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পর কংগ্রেস কতগুলি আসনে জিতেছে? পোস্টের সঙ্গে চোখে আতশকাচ ধরা একটি ইমোজিও জুড়ে দেন তিনি।

মোদীর সেই মন্তব্যের পর বিজেপির একাধিক নেতা একই সুরে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন। কিন্তু নাগপুরের ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ছবিতে নতুন মোড় আসে। দীর্ঘ গণনার শেষে বিজেপি প্রার্থীকে পিছনে ফেলে জয় নিশ্চিত করেন কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াংজারি। ফলে কংগ্রেসকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যায় হাত শিবির।

কেন গুরুত্বপূর্ণ নাগপুরের জয়?

নাগপুর শুধু মহারাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর নয়, আরএসএসের সদর দফতর হওয়ার কারণে বিজেপির রাজনীতিতেও এই শহরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তার উপর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নিজের শহর নাগপুর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরীর সঙ্গেও এই আসনের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৪ বছর এই আসন থেকে মহারাষ্ট্র বিধান পরিষদের সদস্য ছিলেন গডকরী।

এমন একটি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর পরাজয় তাই রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০ সালেও এই আসন থেকে জিতেছিলেন কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াংজারি। এ বারও জয় ধরে রেখে বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে নিজেদের উপস্থিতি ফের জানান দিল কংগ্রেস। নির্বাচনী প্রচারে ফড়নবীস ও গডকরী দু’জনেই বিজেপি প্রার্থী সুধাকর কোহালের হয়ে প্রচার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরেও পরাজয় শাসক শিবিরের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহারাষ্ট্রেও ধাক্কা শাসক জোটের

শুধু নাগপুর নয়, মহারাষ্ট্রের পাঁচটি বিধান পরিষদ আসনের ফলেও ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি ও একনাথ শিন্দের শিবিরের শাসক জোট। পাঁচটির মধ্যে তিনটি আসনে পরাজিত হয়েছে জোটের প্রার্থীরা। বিজেপি এবং শিন্দের দল একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে একটি আসন। বাকি দু’টি আসন জিতেছে শরদ পওয়ারের এনসিপি।

উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতেও একটি বিধান পরিষদ আসনে বিজেপির পরাজয়ের খবর সামনে এসেছে। বারাণসী প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোকসভা কেন্দ্র হওয়ায় এই ফল নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ওই কেন্দ্রের অপর আসনের ফল তখনও প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

‘বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?’

নাগপুরে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা আক্রমণ করেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, মোদী নিজের লোকসভা কেন্দ্রের বিধান পরিষদ আসন হারানোর পাশাপাশি নাগপুরেও বিজেপির পরাজয় দেখলেন। তার পরেই কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘বলুন তো, নাগপুরে কারা জিতল?’

মোদীর বুধবারের পোস্টের পাল্টা জবাব হিসেবেই পবন খেরার এই মন্তব্যকে দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কংগ্রেসের বক্তব্য, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে তাদের আসনসংখ্যা নিয়ে বিদ্রুপ করা হলেও নাগপুরের জয় সেই আক্রমণের জবাব দিয়েছে।

ফড়নবীসকে নিয়েও কংগ্রেসের কটাক্ষ

নাগপুরের ফল সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকেও আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সমাজমাধ্যমের পাতায় ফড়নবীসের একটি পুরনো পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই ফড়নবীস কংগ্রেসের ফলকে ‘বড় শূন্য’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে নাগপুরে কংগ্রেসের জয়ের পর সেই পোস্ট আর তাঁর হ্যান্ডলে দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে বিরোধী দলটি।

এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের খোঁচা, ফল প্রকাশের আগেই জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাস দেখাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি। বিধান পরিষদ নির্বাচনের সামগ্রিক ফল কংগ্রেসের পক্ষে খুব একটা স্বস্তিদায়ক না হলেও নাগপুরের জয় দলের কাছে রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আরএসএসের দুর্গে এই জয়কে সামনে রেখে বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে কংগ্রেস।