The NewsNest Desk: চোরবাগান বিপর্যয়ের পর প্রতিমা নিরঞ্জন ঘিরে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন। দশমীর সকালে কলকাতার বাজে কদমতলা ঘাট পরিদর্শনে গিয়ে নিরঞ্জনের নিয়মকানুন নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা স্পর্শ করতে পারবেন শুধুমাত্র সনাতনীরাই। এই নিয়ম কার্যকর করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তালিকা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বুধবার সকালে বাজে কদমতলা ঘাটে পৌঁছে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিরঞ্জন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং ঘাটের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য নিরঞ্জন ঘিরে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে সতর্কতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে ট্রলির ব্যবস্থা
গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণে আগে প্রতিমা বিসর্জনের পর ক্রেনের সাহায্যে দ্রুত প্রতিমা তুলে নেওয়া হত। তবে এই পদ্ধতি নিয়ে অনেকের আপত্তি ছিল। নিরঞ্জনের প্রচলিত রীতি ও আবেগের কথা মাথায় রেখে এবার ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, নিরঞ্জন হবে নিয়ম মেনে এবং প্রচলিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রেখে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ঘাটে রাখা হচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ। তারাতলার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য পুলিশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন না তুলেও বাড়তি সতর্কতার স্বার্থে এনডিআরএফের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
টাকি ও ইছামতীতেও বাড়তি নজরদারি
দশমীতে টাকি ও ইছামতী নদী এলাকায় নিরঞ্জন ঘিরে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ইছামতীতে নৌকায় করে বহু মানুষ নিরঞ্জন দেখতে যান। ফলে সেখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নৌযান চলাচল এবং নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। ওই এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ ও এনডিআরএফ মোতায়েনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তালিকা তৈরির নির্দেশ
নিরঞ্জনের সময় প্রতিমা স্পর্শ করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, নিরঞ্জনে কারা অংশ নিচ্ছেন এবং কারা প্রতিমা নিয়ে ঘাটে আসছেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চোরবাগান বিপর্যয়ের পর উৎসবের শেষ পর্বে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তবে প্রতিমা স্পর্শের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় নির্ধারণ এবং তালিকা তৈরির নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে নজর থাকবে।