The NewsNest Desk: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল মুম্বইয়ে। রবিবার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তিন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে জানা গিয়েছে। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন অভিনেতা। ঘটনায় আহত হয়েছেন তাঁর গাড়ির চালক। এই হামলার দায় স্বীকার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা এক ব্যক্তির ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ওই দাবির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রকৃত যোগসূত্র তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ফুটবল মাঠ থেকে বেরোনোর সময় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিয়ো। সেখানে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, টাইগার শ্রফ তাঁদের নির্দেশ মানছিলেন না এবং অভিনেতা সলমন খানের সঙ্গে কাজ করছিলেন বলেই তাঁকে নিশানা করা হয়েছে।
ভিডিয়োয় ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, এই হামলার দায় তিনি এবং হরমন সন্ধু নিচ্ছেন। বলিউডের যে শিল্পীরা তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় না রেখে কাজ করবেন অথবা সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদেরও খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সলমন খানকে লরেন্স বিষ্ণোই ও বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
সলমন খানের সঙ্গে সম্পর্কই কি নিশানা?
টাইগার শ্রফ ও সলমন খান এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেননি। তবে বলিউডে তাঁদের পারস্পরিক যোগাযোগ রয়েছে। টাইগারের বলিউডে আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে সলমন খানের ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের সঙ্গেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন সলমন। সলমন খানকে দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের ক্ষোভের কথা উল্লেখ করে সলমনকে নিশানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা যায়।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বইয়ের বান্দ্রায় গুলিতে খুন হয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি। সলমন খানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তুলে সেই হত্যাকাণ্ডের দায়ও বিষ্ণোই গ্যাং নিয়েছিল বলে অভিযোগ। টাইগার শ্রফকে ঘিরে সাম্প্রতিক গুলিচালনার ঘটনায় মুম্বই পুলিশের তদন্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামলাকারীদের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং ভাইরাল ভিডিয়োয় করা দাবির সত্যতা যাচাইয়ের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।