Ajinkya Shinde: Who is Ajinkya Shinde, the CJP leader heading Delhi’s protest after Abhijeet Dipke’s detention?

Ajinkya Shinde: দীপকেরা আটক, এবার ‘ককরোচ’ আন্দোলনের নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্দে! কে তিনি

The NewsNest Desk: দিল্লিতে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস আটক হওয়ার আগেই আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা ঠিক করে রেখেছিলেন দীপকে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিবাদ কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হয় অজিঙ্ক শিন্দেকে। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সিজেপির এই নেতাকে ঘিরে। কে এই অজিঙ্ক? কী ভাবে রাজনীতির ময়দানে উঠে এলেন তিনি?

দীপকে, রাঙ্কা ও সৌরভের আটকের পর সমাজমাধ্যমে সিজেপির তরফে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করা হয়। সেখানে দীপকে জানান, তাঁকে আটক বা গ্রেফতার করা হলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে। অর্থাৎ, শনিবার যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি যাতে নেতৃত্বের অভাবে থমকে না যায়, তার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া হয়েছিল।

দলের জাতীয় সাংগঠনিক ইনচার্জ অজিঙ্ক শিন্দে অবশ্য রাজনীতিতে একেবারে নতুন মুখ নন। সিজেপির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত। তার আগে কাজ করেছেন আম আদমি পার্টির (আপ) হয়ে। তবে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে তাঁর পেশা ছিল তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র।

ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে রাজনীতির ময়দানে

মহারাষ্ট্রের আলিবাগের বাসিন্দা অজিঙ্ক কম্পিউটার সায়েন্সে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। পড়াশোনা শেষ করে পুণের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি শুরু করেন। বেশ কয়েক বছর সেখানে কাজ করার পর চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এর পর অরবিন্দ কেজরীবালের আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন অজিঙ্ক। দলের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন। ২০১৬ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে আপের হয়ে প্রচার করেছিলেন তিনি। পরে মহারাষ্ট্রেও দলের সাংগঠনিক কাজে যুক্ত হন।

তবে আপের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা স্থায়ী হয়নি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠিত হওয়ার পর থেকেই অভিজিৎ দীপকে-সহ দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন অজিঙ্ক। ধীরে ধীরে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। বর্তমানে দলের জাতীয় সাংগঠনিক ইনচার্জ হিসেবে কাজ করছেন।

নিট আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়

সিজেপির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে দেখা যায় অজিঙ্ককে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে জুন-জুলাই মাসে দিল্লিতে যে ‘ককরোচ আন্দোলন’ হয়েছিল, সেখানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। পরে দলের কোর কমিটিতেও জায়গা করে নেন।

শনিবারের বিক্ষোভের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিল। এই দাবিতে যন্তর মন্তরে কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল সিজেপি।

কিন্তু মহারাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে এসে বিমানবন্দরে নামার পরেই আটক হন দলের প্রতিষ্ঠাতা দীপকে, রাঙ্কা ও সৌরভ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ তাঁদের বিমান দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিন জনকে আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। দীপকে-কে গুরুগ্রামে, সৌরভ দাসকে দিল্লিতে এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে দ্বারকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।

নেতৃত্বের দায়িত্ব অজিঙ্কের হাতে

দলের শীর্ষ নেতারা আটক হওয়ায় শনিবারের কর্মসূচি অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারত। কিন্তু দীপকে আগে থেকেই অজিঙ্ককে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করে রেখেছিলেন। ফলে নেতৃত্বের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি ছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে অজিঙ্ক শিন্দের এই দায়িত্ব গ্রহণ সিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতিকেও সামনে এনেছে। এত দিন দলের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও অভিজিৎ দীপকে-রা আটক হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্বে আসায় এখন অনেক বেশি আলোচনায় অজিঙ্ক।

তবে এই আন্দোলন আগামী দিনে কতটা বিস্তার লাভ করবে, তা নির্ভর করবে সিজেপির পরবর্তী কর্মসূচি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত দাবিগুলিকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। আপাতত দলের নেতৃত্বের বিকল্প মুখ হিসেবে অজিঙ্ক শিন্দেকেই সামনে এনেছেন অভিজিৎ দীপকে।