Nobel 2026: Karl Deisseroth, Peter Hegemann and Georg Nagel win the 2026 Nobel Prize in Physiology or Medicine for groundbreaking research on optogenetics and light-gated ion channels.

Nobel 2026: মস্তিষ্কের রহস্য ভেদে আলোর ‘সুইচ’, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

The NewsNest Desk: মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষকে আলো ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণের পথ দেখিয়ে ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। নিউরনকে আলোর সাহায্যে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি অপটোজেনেটিক্স এবং ‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল’ নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে কার্ল ডেইসারথ, পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেলকে এ বছরের পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সুইডেনের স্টকহোমে কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি তিন বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডেইসারথের বয়স ৫৪ বছর। জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হেগেমান ৭১ এবং ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ নাগেল ৭৩ বছরের।

নোবেল কমিটির মতে, তাঁদের গবেষণা নিউরোসায়েন্সে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়—এসব বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইসঙ্গে পার্কিনসন্স, অবসাদ এবং মৃগীর মতো স্নায়বিক ও মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিয়ে গবেষণাতেও এর ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সবুজ শ্যাওলা থেকেই শুরু হয়েছিল গবেষণার পথ

তিন বিজ্ঞানীর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি ছোট্ট সবুজ শ্যাওলা। আলো পেলে সেই শ্যাওলা কীভাবে তার গতিপথ বদলায়, সেই শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিনের সন্ধান পান পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল। তাঁদের গবেষণায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট একটি প্রোটিনের উপর নীল আলো পড়লে সেটি আয়নের চলাচলের পথ খুলে দেয়। এর ফলে কোষের মধ্যে তৈরি হয় বৈদ্যুতিক সংকেত। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই প্রোটিনের জিন অন্য কোষে প্রবেশ করানো গেলে সেই কোষও আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। এই আবিষ্কারই পরবর্তী সময়ে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষকে আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রযুক্তির ভিত্তি তৈরি করে।

ইঁদুরের মস্তিষ্কে তৈরি হল আলোর সুইচ

এর পর সেই আবিষ্কারকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান কার্ল ডেইসারথ। নির্দিষ্ট জিন ব্যবহার করে জীবন্ত ইঁদুরের মস্তিষ্কের নিউরনের মধ্যে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেন, যার মাধ্যমে আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষকে সরাসরি ‘অন’ এবং ‘অফ’ করা সম্ভব হয়। মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষকে আলাদা করে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার এই পদ্ধতিই পরিচিত হয়ে ওঠে অপটোজেনেটিক্স নামে। নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে মস্তিষ্কের জটিল কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার জন্য এই প্রযুক্তি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতির ফলে গবেষকরা মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে আচরণ, অনুভূতি ও অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত, তা আরও নির্দিষ্টভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছেন।

শুরু হল নোবেল সপ্তাহ

নোবেল কমিটির সচিব থমাস পার্লম্যান জানিয়েছেন, তিন বিজয়ীর সঙ্গেই ফোনে যোগাযোগ করে তাঁদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। চলতি বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য মোট ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন, যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হল এ বছরের নোবেল সপ্তাহ। মঙ্গলবার ঘোষণা করা হবে পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ীর নাম। বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য এবং শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের বিজয়ীর নাম জানা যাবে আগামী ১২ অক্টোবর।