Sheikh Hasina: Bangladesh says political will is as important as the legal process in seeking the extradition of former Prime Minister Sheikh Hasina from India.

Sheikh Hasina: হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে ভারতের ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছা’ চাই, পাল্টা বক্তব্য ঢাকার

The NewsNest Desk:  সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে থেকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রশ্নে নতুন করে মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা ও নয়াদিল্লি। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এবার বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়ে দিলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ শুধু আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় নয়, এর জন্য প্রয়োজন দুই দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছাও। ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথায় শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনাসহ যাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যাঁরা সাজাপ্রাপ্ত, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। তাঁর বক্তব্য, আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্যোগও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

কী বলেছিলেন ভারতের হাইকমিশনার?

বাংলাদেশ সরকারের এই প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত ঢাকায় আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য ঘিরে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভারত বিষয়টি আইনগত ও বিচারিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করছে। সেই সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারত যাত্রা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, শেখ হাসিনাকে ভারতের সেনাবাহিনী ঢাকা থেকে উদ্ধার করে ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর বিমানেই তাঁকে দিল্লিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো আবেদন নিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিচারিক পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান হাইকমিশনার। তবে সেই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলেও তাঁর বক্তব্য।

‘রাজনৈতিক সদিচ্ছাও প্রয়োজন’, বলছে ঢাকা

দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকার একটি অংশের মতে, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন কোনও নীতি ঘোষণা করেননি; বরং শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে অন্য একটি মহলের ব্যাখ্যা, ঢাকার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের সামনে দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান যথেষ্ট স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, হাইকমিশনারের বক্তব্যের অর্থ সম্ভবত এই যে, বিষয়টি বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয় এবং এর দায় একতরফাভাবে ভারতের উপর চাপানো যায় না। তবে ভারত এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

প্রত্যর্পণ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা

বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যে অবশ্য স্পষ্ট, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে রাজনৈতিক উদ্যোগ দেখতে চাইছে। তাঁর মতে, এই প্রত্যর্পণের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ—দুই দেশেরই রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সেই সদিচ্ছা রয়েছে বলেও তিনি জানান এবং একই ধরনের উদ্যোগ ভারতের কাছ থেকেও প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে, ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়াদিল্লি এখনও আইনি ও বিচারিক পর্যালোচনার মধ্যেই রয়েছে। ফলে তাঁকে কবে বাংলাদেশে ফেরানো হবে, সেই বিষয়ে আপাতত কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা সামনে আসেনি।শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি এবং ভারতের আইনি পর্যালোচনার অবস্থানের মধ্যেই এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।