From Niyoga to IVF: How ancient ideas of biological parenthood echo in modern reproductive technology.

IVF প্রাচীন ভারতের নিয়োগ প্রথা থেকে IVF: বদলেছে পদ্ধতি, সন্তানকে ঘিরে সেই পুরনো প্রশ্ন কি আজও একই?

The NewsNest Desk : আজ কোনও দম্পতির সন্তান হচ্ছে না। চিকিৎসকের কাছে গেলে প্রথমেই শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। কম শুক্রাণু, শুক্রাণুর গতিশীলতার সমস্যা, ডিম্বস্ফোটনে জটিলতা কিংবা ডিম্বাণুর মান নিয়ে সমস্যা—কারণ যাই হোক, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, পথ এখনও খোলা। রয়েছে IVF, ICSI, donor sperm, donor egg-এর মতো একাধিক reproductive technology।

কিন্তু কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে গেলে? তখন তো IVF ছিল না, ছিল না শুক্রাণু বা ডিম্বাণু পরীক্ষার আধুনিক পদ্ধতিও। তবু সন্তান পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তখনও ছিল। সেই জায়গাতেই আলোচনায় আসে প্রাচীন ভারতের নিয়োগ প্রথা।

নিয়োগের ধারণা ছিল মূলত সন্তানহীনতা বা বংশরক্ষার মতো পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট সামাজিক-ধর্মীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য একজন পুরুষের জৈবিক সহায়তায় সন্তান লাভ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যে পুরুষ জৈবিক ভূমিকা পালন করছেন, তাঁকেই সবসময় সামাজিক বা আইনগত অর্থে সন্তানের বাবা হিসেবে বিবেচনা করা হত না। অর্থাৎ, জৈবিক পিতা এবং সামাজিক পিতৃত্ব—দুটি ধারণা আলাদা হতে পারত।

প্রাচীন এই ধারণাকে বোঝাতে জমির সঙ্গে বীজের তুলনাও করা হয়েছে। জমি যার, সেখানে অন্য কেউ বীজ বুনলেও ফসলের মালিকানা বীজ বোনার ব্যক্তির হয় না—এই যুক্তির মাধ্যমে জৈবিক অবদান এবং সামাজিক পিতৃত্বের পার্থক্য বোঝানো হয়।

মহাভারতের কাহিনিতেও জৈবিক জন্ম এবং সামাজিক পিতৃত্বের এই পৃথক ধারণা নিয়ে বহু আলোচনা রয়েছে। পাণ্ডবদের জন্মকাহিনিতে বিভিন্ন দেবতার নাম থাকলেও তাঁদের পরিচয় পাণ্ডুর পুত্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। আবার বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পরে তাঁর স্ত্রীদের গর্ভে ব্যাসের মাধ্যমে সন্তান জন্মানোর কাহিনিও প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্যে এই প্রশ্নকে সামনে আনে—সন্তানের জৈবিক উৎস এবং সামাজিক পরিচয় কি একই বিষয়?

এই ধারণা শুধু মহাভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সোমদেবের কথাসরিৎসাগর-এর একটি গল্পেও সন্তান পাওয়ার উদ্দেশ্যে একজন নারীর অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কাহিনি রয়েছে। সেখানে জৈবিক ভূমিকা পালনকারী পুরুষের পরিবর্তে মৃত স্বামীর সঙ্গেই সন্তানের পরিচয় যুক্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে কেরলের সামাজিক ইতিহাস নিয়েও এমন কিছু সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে জৈবিক পিতা, সামাজিক পরিবার এবং উত্তরাধিকারের নিয়ম একে অপরের সঙ্গে সরাসরি মিলে যেত না। তবে এই ঐতিহাসিক প্রথাগুলিকে আধুনিক IVF-এর সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। দুটির সামাজিক, ধর্মীয়, চিকিৎসাগত এবং নৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ আলাদা।

তবু তুলনাটা আকর্ষণীয়।

কারণ আজও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে জৈবিক অবদান এবং সামাজিক পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব সবসময় একই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

স্বামীর শুক্রাণু ব্যবহার সম্ভব না হলে donor sperm ব্যবহারের কথা উঠতে পারে। স্ত্রীর ডিম্বাণু ব্যবহার সম্ভব না হলে donor egg-এর প্রয়োজন হতে পারে। IVF-এর ক্ষেত্রে নিষেক শরীরের বাইরে পরীক্ষাগারে ঘটিয়ে পরে ভ্রূণ জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞান এমনভাবে ভাগ করেছে, যেখানে জেনেটিক, গর্ভধারণ এবং অভিভাবকত্ব—এই তিনটি বিষয়কে আলাদাভাবে ভাবা সম্ভব।

সেখানেই প্রাচীন নিয়োগ প্রথা ও আধুনিক IVF-এর মধ্যে একটি ধারণাগত মিল চোখে পড়ে। প্রাচীন সমাজে অন্য একজন পুরুষের জৈবিক ভূমিকা সন্তানলাভের পথ তৈরি করতে পারত। আধুনিক চিকিৎসায় সেই কাজের জায়গায় এসেছে প্রযুক্তি, donor programme এবং reproductive medicine।

তবে দুটির মধ্যে পার্থক্যও মৌলিক। নিয়োগ ছিল একটি সামাজিক-ধর্মীয় প্রথা, আর IVF একটি চিকিৎসা-পদ্ধতি, যার সঙ্গে চিকিৎসা-নিরাপত্তা, সম্মতি, জেনেটিক পরিচয়, আইনি অধিকার এবং নৈতিকতার মতো বহু আধুনিক প্রশ্ন জড়িত।

তাই প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত শুধু ‘সন্তান কীভাবে জন্মাল?’—এখানে থেমে থাকে না।

প্রশ্ন হয়—সন্তানের জৈবিক বাবা কে? জেনেটিক মা কে? গর্ভধারণকারী মা কে? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সন্তানের বাবা-মা কাকে বলা হবে?

হাজার বছর আগে মানুষ এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজেছিল সামাজিক প্রথা ও ধর্মীয় ধারণার মধ্যে। আজ একই ধরনের প্রশ্নের সামনে দাঁড়াচ্ছে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও আইন।

সময় বদলেছে। পদ্ধতি বদলেছে। IVF এসেছে, এসেছে ICSI, donor sperm ও donor egg। কিন্তু সন্তানকে ঘিরে মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং ‘পিতা-মাতা আসলে কারা?’—এই মৌলিক প্রশ্নটি হয়তো এখনও পুরোপুরি বদলায়নি।

প্রাচীন সমাজে যেখানে মধ্যস্থতা করত একজন মানুষ, আধুনিক পৃথিবীতে সেখানে দাঁড়িয়েছে ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসাবিজ্ঞান। কিন্তু প্রশ্নটা এখনও একই জায়গায় ফিরে আসে—জন্মের সঙ্গে সম্পর্ক বড়, নাকি সন্তানকে নিজের করে নেওয়া এবং তার দায়িত্ব পালন করাই পিতৃত্ব-মাতৃত্বের আসল পরিচয়?