El Niño: How Asia is preparing for a ‘supersized’ El Niño

El Niño: তীব্র এল নিনোর ভ্রুকুটি: খরা, বন্যা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কায় কাঁপছে এশিয়া

বিশেষ প্রতিবেদন: রেকর্ড ভাঙা তীব্র এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ জলবায়ু পরিস্থিতি এবং মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের ফলে চলতি বছরের শেষ দিক থেকে শুরু করে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই চরম আবহাওয়া আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ তীব্র খরা, দাবানল, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় এবং চরম খাদ্য সংকটের হুমকির মুখে পড়তে চলেছেন। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে ‘আমাদের চোখের সামনে আরও বিশাল আকার ধারণ করা’ বলে সতর্ক করেছেন।

শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে দক্ষিণ কোরিয়া—বিভিন্ন দেশের সরকার সম্ভাব্য এই পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হংকং এবং মূল ভূখণ্ড চীনে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে কর্মঘণ্টা পরিবর্তন এবং জলবায়ু ঝুঁকি মানচিত্র বা ‘ক্লাইমেট রিস্ক ম্যাপ’ তৈরির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাইওয়ান এই পরিস্থিতিকে সন্ত্রাসী হামলা বা ভূমিকম্পের মতো জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে তিন দিনব্যাপী বিশেষ মহড়া চালিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এল নিনোর প্রভাব ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের কৃষিমন্ত্রীর ভাষায় কৃষকদের জন্য একটি ‘সুরক্ষাবলয়’ তৈরি করতে দেশের তিন শতাধিক জেলায় জল সংরক্ষণ ও স্বল্প জলের ফসল চাষের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি হওয়া শ্রীলঙ্কায় পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, বন্যপ্রাণীদের বাঁচাতে এবং পুকুরগুলোতে জল সরবরাহ করতে ট্যাঙ্কার ব্যবহার করতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এমনকি সমুদ্রের নোনাজল প্রক্রিয়াজাত করার কথাও ভাবতে হচ্ছে কলম্বোকে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি সংকট এবং আকাশচুম্বী সারের দামের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে প্রধান খাদ্য চালের উৎপাদন ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তা হিসেবে দেখার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ায় গত ১৮ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হিটওয়েভ অ্যালার্ট সিস্টেমে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাপমাত্রা নির্দিষ্ট সীমার বেশি বাড়লে বাইরের জরুরি নয় এমন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জাপান তীব্র তাপপ্রবাহের পর এবার প্রলয়ংকরী সুপার টাইফুনের আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতির এই চরম চাপ এশিয়ার দেশগুলোর বিদ্যমান পরিকাঠামোকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।