The NewsNest Desk : ভাবুন তো, একই গ্রেগরিয়ান বছরে দু’বার ঈদুল আজহা আর একবার ঈদুল ফিতর! শুধু তাই নয়, একই বছরে দু’টি হজ মৌসুমের প্রধান আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হবে। শুনতে অবাক লাগলেও এমনই বিরল ক্যালেন্ডার-সমাপতন ঘটতে চলেছে ২০৩৯ সালে। ইসলামি হিজরি বর্ষ ও গ্রেগরিয়ান বর্ষের দিনের ব্যবধানের কারণেই তৈরি হবে এই ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি।
ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদের গতির উপর নির্ভরশীল। হিজরি বছরের ১২টি মাস মিলিয়ে সময় হয় প্রায় ৩৫৪ দিন। অন্যদিকে সাধারণ গ্রেগরিয়ান বছর ৩৬৫ দিনের। ফলে প্রতি বছর ইসলামি তারিখ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন করে এগিয়ে আসে। প্রায় ৩৩ বছরের একটি চক্রে ইসলামি মাসগুলি গ্রেগরিয়ান বছরের বিভিন্ন সময়ের মধ্য দিয়ে ঘুরে আসে। এই হিসাবেই ২০৩৯ সালে জিলহজ মাস দু’বার গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে পড়বে। আর জিলহজই যেহেতু হজের মাস, তাই একই গ্রেগরিয়ান বছরে দু’টি ভিন্ন হিজরি বছরের হজের প্রধান দিনগুলি পড়বে।
উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রথম জিলহজ ১৪৬০ হিজরি শুরু হবে ২০৩৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে। সেই হিসেবে ৮ জিলহজ পড়তে পারে ২০৩৯ সালের ৩ জানুয়ারি, আর আরাফার দিন ৪ জানুয়ারি। এরপর ১০ জিলহজ, অর্থাৎ ঈদুল আজহা পড়ার সম্ভাবনা ৫ জানুয়ারি ২০৩৯।বছরের শেষ দিকে আবার শুরু হবে জিলহজ ১৪৬১ হিজরি। দ্বিতীয় হজের আরাফার দিন সম্ভাব্য ২৫ ডিসেম্বর, আর ২৬ ডিসেম্বর পালিত হতে পারে দ্বিতীয় ঈদুল আজহা। এর মাঝেই আসবে ঈদুল ফিতর। রমজান ১৪৬১ শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য ১৯ অক্টোবর ২০৩৯ পড়বে ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ২০৩৯ সালের সম্ভাব্য ধর্মীয় ক্যালেন্ডারটি দাঁড়াচ্ছে— জানুয়ারিতে ঈদুল আজহা, অক্টোবরে ঈদুল ফিতর এবং ডিসেম্বরে আবার ঈদুল আজহা।
তবে বিষয়টি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। এই তারিখগুলি এখনও চূড়ান্ত নয়। এগুলি উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডারভিত্তিক পূর্বাভাস। ইসলামি মাসের শুরু চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করায় বিভিন্ন দেশ বা কর্তৃপক্ষের ঘোষিত তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে। ফলে ২০৩৯ সালের হজ ও ঈদের সরকারি তারিখ সময়ের কাছাকাছি গিয়ে নিশ্চিত হবে।
আরও একটি বিষয় পরিষ্কার—এখানে কোনও একটি হিজরি বছরে দু’বার হজ হচ্ছে না। প্রথম হজটি ১৪৬০ হিজরি সালের জিলহজে এবং দ্বিতীয়টি ১৪৬১ হিজরি সালের জিলহজে। গ্রেগরিয়ান ও হিজরি ক্যালেন্ডারের দৈর্ঘ্যের পার্থবক্যের কারণেই দু’টি আলাদা হিজরি বছরের হজ একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে চলে আসবে। এর আগে ২০৩০ সালেও দুটি রমজানের শুরু একই গ্রেগরিয়ান বছরে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০৩৯ সালের ঘটনা আরও ব্যতিক্রমী, কারণ সেই বছরে দুই জিলহজের হজের প্রধান দিন এবং তিনটি ঈদই একই গ্রেগরিয়ান বছরের মধ্যে পড়বে।