The NewsNest Desk : চিনের সহযোগিতায় পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনতে পারে—এমন খবরকে ভারতের জন্য ‘উদ্বেগের কারণ’ বলে উল্লেখ করলেন ভারতীয় বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং। তবে একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের হাতে এলেও ভারতকে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় পড়তে হবে না। পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ভারতের রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার নয়াদিল্লিতে বায়ুসেনা দিবসের আগে বার্ষিক সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তান-চিনের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন এয়ার চিফ। তিনি জানান, পাকিস্তান পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করতে চলেছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানি পাইলটদের চিনে প্রশিক্ষণ দেওয়ার খবরও রয়েছে। ফলে বিষয়টি যে ভারতের জন্য উদ্বেগের, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি।
শুধু যুদ্ধবিমান নয়, আসল বিষয় সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা
তবে এয়ার চিফের বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তাঁর মতে, কোনও দেশের হাতে উন্নত যুদ্ধবিমান থাকা মানেই আকাশযুদ্ধে সেই দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাবে—এমনটা নয়। একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ক্ষমতার পাশাপাশি সেটি দেশের সামগ্রিক সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে কতটা কার্যকরভাবে যুক্ত হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ যুদ্ধবিমান, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি ব্যবস্থা, কমান্ড নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য সামরিক প্রযুক্তির মধ্যে সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নিতে পারে। এয়ার চিফের বক্তব্য, ভারতও এই ধরনের সমন্বিত সক্ষমতার উপর জোর দিচ্ছে।
AMCA-তে দেরি হলে বিকল্প পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান?
পাকিস্তানের সম্ভাব্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব AMCA (Advanced Medium Combat Aircraft) প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এয়ার চিফ জানিয়েছেন, দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির কর্মসূচিতে যদি আরও দেরি হয়, তাহলে ভারতকে অন্য প্ল্যাটফর্মের কথাও ভাবতে হতে পারে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান পৌঁছে গেলে ভারতেরও সেই সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। রাশিয়ার তরফে Su-57 যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে, যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এদিকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান বহর নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এয়ার চিফের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতি বছর ৩৬ থেকে ৪০টি নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে স্কোয়াড্রনের সংখ্যা আর না কমে।
থিয়েটার কমান্ড নিয়েও সতর্ক অবস্থান
সাংবাদিক বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর থিয়েটার কমান্ড গঠন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন এপি সিং। তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনা থিয়েটার কমান্ডের বিরোধী নয়। তবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পরিস্থিতি বদলেছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সরকার ইতিমধ্যেই সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনাকে আরও সমন্বিত করে থিয়েটার কমান্ড গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য যৌথ কমান্ড তৈরি করার কথা রয়েছে।
সেনাকর্মীদের ‘হানি ট্র্যাপ’ নিয়ে সতর্কবার্তা
ডিজিটাল যুগে সামরিক কর্মীদের জন্য ‘হানি ট্র্যাপ’-এর ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছেন এয়ার চিফ। সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার জন্য সেনাকর্মীদের নিয়মিত সচেতন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষা কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। এয়ার চিফ জানান, এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মীদের নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।
ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন এপি সিং। চলতি সপ্তাহে একটি ফ্লাইদুবাই বিমানকে রক্ষা করার ঘটনায় তাঁর অসাধারণ সাহস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে এয়ার চিফ বলেন, তাঁর কাজ নিয়ে প্রত্যেক ভারতীয় গর্বিত।
সব মিলিয়ে এয়ার চিফের বক্তব্যে একদিকে যেমন পাকিস্তান-চিনের সম্ভাব্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সহযোগিতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে, তেমনই দেশের নিজস্ব যুদ্ধবিমান সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।