India and Pakistan summon each other’s diplomats after two Pakistani nationals are killed in a BSF border shooting

India-Pakistan বিএসএফের গুলিতে ২ পাকিস্তানি নিহত, একে অপরের কূটনীতিককে তলব ভারত-পাকিস্তানের

The NewsNest Desk : পাঞ্জাবের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। ঘটনার এক দিন পর, শনিবার (৩ অক্টোবর) দুই দেশই একে অপরের কূটনীতিককে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। নিহত দুই ব্যক্তিকে পাকিস্তান সাধারণ নাগরিক বলে দাবি করলেও ভারত জানিয়েছে, তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করায় বিএসএফকে গুলি চালাতে হয়।

পাকিস্তানের দাবি, ‘নিরস্ত্র নাগরিককে’ গুলি

পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক শনিবার ইসলামাবাদে ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সত্যাঞ্জল পাণ্ডেকে তলব করে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, পাঞ্জাবের আন্তর্জাতিক সীমান্তের বেদিয়ান সেক্টরে বিএসএফ কোনও উস্কানি ছাড়াই দুই নিরস্ত্র পাকিস্তানি নাগরিকের উপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে।

পাকিস্তান এই গুলিচালনাকে ‘অন্যায্য’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে নিহত দু’জনকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ভারতীয় বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক ঘটনার স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ইসলামাবাদ আরও বলেছে, সীমান্তে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা মেনে চলা উচিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য ভারতকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করারও আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।

ভারতের পাল্টা অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশ’ ও মাদক চক্র

এর পরই নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সাদ ওয়ারাইচকে তলব করে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। পাকিস্তানের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ভারত জানিয়েছে, সীমান্তে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশে’ পাকিস্তানের তরফ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা করা হচ্ছে—এই বিষয়েই কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর তিন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিলেন। বিএসএফের সতর্কবার্তার পরও তাঁরা সীমান্তের বেড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের গতিবিধিকে নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে বিএসএফ গুলি চালায় বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ভারত আরও অভিযোগ করেছে, সীমান্তের ওই এলাকায় পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সশস্ত্র মাদক পাচারকারী চক্রের সক্রিয়তা রয়েছে। এই ধরনের আন্তঃসীমান্ত গতিবিধি এবং মাদক পাচার ঠেকাতে পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

নিহতদের পরিচয় ঘিরেও ভিন্ন দাবি

ঘটনায় নিহত দুই পাকিস্তানি নাগরিকের নাম ২০ বছরের আজমত শাহ এবং ২২ বছরের মোশিন হাবিবুল্লাহ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের সীমান্তে কী উদ্দেশ্যে উপস্থিতি ছিল এবং তাঁরা আদৌ অনুপ্রবেশকারী ছিলেন কি না, তা নিয়েই ভারত ও পাকিস্তানের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

ফলে বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাটি এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নেই; তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে অন্য দেশকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।