Germany and Japan rearm 80 years after World War II amid rising China and Russia threats

germany-japan-rearm দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পর সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে জার্মানি-জাপান, কেন বদলাল অবস্থান?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতির প্রায় আট দশক পর ফের সামরিক শক্তি বাড়ানোর পথে জার্মানি ও জাপান। যুদ্ধের পর দুই দেশই সামরিক ক্ষমতা সীমিত রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আমেরিকার নিরাপত্তা-নির্ভরতার দিকে বেশি জোর দিয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং আমেরিকার নিরাপত্তা নীতিতে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বদলাচ্ছে সেই অবস্থান।

১৯৪০ সালে জার্মানি ও জাপান আমেরিকার বিরোধিতায় অক্ষশক্তির অংশ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর দুই দেশই দীর্ঘ সময় সামরিক শক্তি বৃদ্ধির বদলে শান্তি, কূটনীতি, মুক্ত বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেই মানসিকতায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : Deepika Padukone: দিদি হল দুয়া! দ্বিতীয় বার বাবা-মা দীপিকা-রণবীর, পুত্র না কি কন্যা?

জার্মানির ক্ষেত্রে ইউক্রেন যুদ্ধ বড় পরিবর্তনের কারণ হয়েছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্জের নেতৃত্বে দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে জার্মানির সামরিক ব্যয় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের সম্মিলিত ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেনের সঙ্গে অস্ত্র প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও বাড়িয়েছে বার্লিন।

জাপানও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। চলতি বছরে দেশটির প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার। দক্ষিণ জাপানে চিনে পৌঁছতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের অস্ত্র রফতানি সংক্রান্ত বিধিনিষেধও শিথিল করেছে টোকিয়ো। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রায় ৬৫০ কোটি ডলারের যুদ্ধজাহাজ চুক্তিও করেছে জাপান।

এই পরিবর্তনের পিছনে চিন ও রাশিয়ার পাশাপাশি আমেরিকার ভূমিকার কথাও আলোচনায় আসছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপীয় মিত্রদের নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি অর্থ খরচের দাবি জানিয়ে আসছেন। ইউরোপে আমেরিকার নিরাপত্তা-প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা জার্মানির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ আরও বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশের মত।

তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার সরাসরি তুলনা করা হচ্ছে না। বর্তমানে জার্মানি ও জাপান নিজেদের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার মতো দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। জার্মানি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় সক্রিয় এবং জাপান চিন ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

জার্মানিতে সামরিক ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে জনসমর্থন জাপানের তুলনায় বেশি হলেও দুই দেশেই বিতর্ক রয়েছে। জাপানে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নিরাপত্তা নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্র রফতানি বৃদ্ধি এবং সংবিধানের নবম অনুচ্ছেদের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বদলের আশঙ্কা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

আরও পড়ুন : Durga Puja: মাত্র ১০ মিনিটে অষ্টমীর মেকআপ, এই নিয়মে সাজো, তোমার কথায় বলবে সবাই

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী মানসিকতা থেকে সামরিক শক্তির দিকে এগোতে হলে শুধু প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ালেই হবে না, সমাজের মানসিকতাতেও বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানি ও জাপানের নিরাপত্তা নীতিতে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ফেলতে পারে।