কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে রাতভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হওয়ার পর এবার তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করলেন অর্জুন সিং। অভিষেককে ‘ওষুধ’ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর মন্তব্য, “ওকে অ্যালোপ্যাথি দিতে হবে। হোমিওপ্যাথিতে হবে না।” এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের স্লোগান-পাল্টা স্লোগান থেকে পরিস্থিতি সংঘর্ষের দিকে গড়ায় বলে অভিযোগ। দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির খবরও সামনে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার পর বাড়ির বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন অভিষেক।
‘ওষুধ’ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
কোন ধরনের ওষুধের কথা বলছেন, তা জানতে চাওয়া হলে অর্জুন সিং হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, অভিষেকের ক্ষেত্রে অ্যালোপ্যাথি প্রয়োজন, হোমিওপ্যাথিতে কাজ হবে না। তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আক্রমণের ভাষা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অভিষেককে উদ্দেশ্য করে ‘ওষুধ’ প্রয়োগের কথা এবং দলের কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
কালীঘাটের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত
অন্যদিকে, কালীঘাটের ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বাড়ির সামনে পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছিল এবং পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি। এই অভিযোগ ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিষেকের বাড়ির সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় বিজেপিকে নিশানা করেছেন।
জন্মদিনের রাতের কালীঘাটকাণ্ড এখন শুধুমাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি আক্রমণে তা রাজ্য রাজনীতির নতুন বিতর্কে পরিণত হয়েছে। অর্জুন সিংয়ের ‘অ্যালোপ্যাথি’ মন্তব্য সেই উত্তেজনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।