The NewsNest Desk : ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক মাশুল কি এবার দিতে হতে পারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে? যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কার পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জল্পনা তীব্র হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে হেগসেথের পাশেই দাঁড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খুব ভালো কাজ করছেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দাবি একাধিক সূত্রের। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি এবার অনিশ্চিত?
হেগসেথকে সরানোর প্রশ্নে কী বললেন ট্রাম্প?
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর তিনি কি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সরানোর কথা ভাবছেন? জবাবে ট্রাম্প বলেন, না। তাঁর মতে, হেগসেথ অত্যন্ত ভালো কাজ করছেন। এমনকী ইরান যুদ্ধের অন্যতম সমর্থক হিসেবেও তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য সমর্থনের পরেও জল্পনা থামছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দাবি, নির্বাচনী বিপর্যয়ের কারণ পর্যালোচনা করতে গিয়ে হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্পের এক উপদেষ্টার বক্তব্য, যুদ্ধের কারণে কাউকে না কাউকে দায় নিতে হতে পারে। আর সেই চাপ হেগসেথের উপরেও পড়তে পারে।
ইরান যুদ্ধই কি কাল হল রিপাবলিকানদের?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পিছনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ বড় কারণ হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং তার আর্থিক ও সামরিক মূল্য নিয়ে আমেরিকার ভিতরেই প্রশ্ন বাড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে পড়েছে বলেও তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত মিলেছে।
হেগসেথকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। গত ২৩ মার্চ ট্রাম্প নিজেই বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর প্রস্তাব প্রথম দিকেই সমর্থন করেছিলেন হেগসেথ। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক দায় তাঁর উপরেও বর্তাতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
২০০৬ সালের বুশ প্রশাসনের সঙ্গে তুলনা
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০০৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনা টানা হচ্ছে। সেবার ইরাক যুদ্ধ নিয়ে জনঅসন্তোষের জেরে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরদিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।
এবারও ইরান যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে পড়েছে বলে আলোচনা চলছে। তবে ট্রাম্প আপাতত হেগসেথকে সরানোর পথে হাঁটছেন না। এই জায়গাতেই ২০০৬ সালের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য স্পষ্ট।
ডেমোক্র্যাটদের তদন্তের মুখে পড়তে পারেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
নির্বাচনের পর কংগ্রেসে শক্তিশালী অবস্থানে আসা ডেমোক্র্যাটরা পেন্টাগনের কাজকর্ম নিয়ে তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা, শীর্ষ সামরিক আধিকারিকদের অপসারণ এবং ইউক্রেন নীতি—একাধিক বিষয় তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
লাতিন আমেরিকার জলসীমায় মাদক পাচারের সন্দেহে নৌযানের উপর মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টিও তদন্তের দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাটদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকটি সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলতে পারে।
রিপাবলিকান শিবিরেও হেগসেথকে নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে। সেনেটর টম টিলিসের বক্তব্য, প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয়ের প্যাকেজ কংগ্রেসে পাশ করানোর ক্ষেত্রে হেগসেথ কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারবেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ ছেড়ে কি সেনেটে যেতে পারেন হেগসেথ?
হেগসেথকে ঘিরে আরেকটি সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। টেনেসির সেনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন গভর্নর নির্বাচিত হওয়ায় আগামী দিনে তাঁর সেনেটের আসনটি খালি হতে পারে। সেই আসনে অন্তর্বর্তী সেনেটর হিসেবে হেগসেথকে নিয়োগ করার সম্ভাবনা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, হেগসেথ ওই পদে গেলে জনপ্রিয় হতে পারেন। যদিও এমন কোনও সিদ্ধান্তের কথা তিনি জানেন না বলেও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা দপ্তরের নেতৃত্ব দিতে হেগসেথ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থাৎ আপাতত তাঁর পদত্যাগ বা অপসারণের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ, নির্বাচনী বিপর্যয় এবং কংগ্রেসে সম্ভাব্য তদন্ত—এই তিনের চাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর পাশে থাকলেও শেষ পর্যন্ত হেগসেথ নিজের পদ ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটাই এখন ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন।