The NewsNest Desk : প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ, আর তার পরিণতি ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড! উত্তরপ্রদেশের কন্নৌজে স্ত্রীকে চেয়ারে বেঁধে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ বছরের এক তরুণীর। মৃতার নাম সোনম। এই নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
গ্রামের যুবকের সঙ্গে প্রেম, দাম্পত্যে অশান্তি
একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের কন্নৌজ জেলার জগতপুর গ্রামের। অভিযুক্ত ৩৫ বছরের সুখবীর সিং কর্মসূত্রে হরিয়ানায় থাকতেন। প্রায় ১১ বছর আগে সোনমের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ, সুখবীর কর্মসূত্রে বাইরে থাকার সময় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সোনম। স্বামীর সংসার ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই সুখবীর ও সোনমের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
থানায় সালিশি সভা, তাতেও মেলেনি সমাধান
পরিস্থিতি সামাল দিতে দিন দুয়েক আগে স্থানীয় সিকন্দরপুর থানায় সালিশি সভা বসে। সেখানে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হয়। আলোচনার শেষে সোনম ওই যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বামীর সংসারে ফিরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে দাবি।
কিন্তু ঘটনার মোড় আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে ওই দিন সন্ধ্যায়। সোনমের প্রেমিক যুবক বিষাক্ত কিছু খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর ফের সুখবীর ও সোনমের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়।
চেয়ারে বেঁধে আগুন ধরানোর অভিযোগ
অভিযোগ, সেই বিবাদের মধ্যেই মেজাজ হারান সুখবীর। স্ত্রীকে জোর করে একটি চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে ফেলেন তিনি। এরপর সোনমের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আগুনে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তরুণীর।
ঘটনার ভয়াবহতা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তবে তার আগেই অভিযুক্ত সুখবীর দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
গ্রেফতার অভিযুক্ত, তদন্তে পুলিশ
পরে পুলিশ অভিযুক্ত সুখবীর সিংকে গ্রেফতার করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার অভিযোগের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে, ঘটনার একটি ভিডিও-ঝলক সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ফের দাম্পত্য হিংসা ও পারিবারিক বিবাদের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।