The NewsNest Desk : দিল্লি, ২৪ অক্টোবর: স্কুলের ভিতরে রহস্যজনক ভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর। শনিবার দিল্লির কৃষ্ণ নগরের একটি স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘরের পিছনে জলের ট্যাঙ্কের কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। কী ভাবে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল গোয়ল ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে স্কুলে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও দমকলের দল। স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীদের ঘরের পিছনে জলের ট্যাঙ্কের পাশে ওই ছাত্রীকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর মুখের একাংশ গুরুতর ভাবে পুড়ে গিয়েছিল। পরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
দমকল আধিকারিক অনুপ সিংহ জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁদের কাছে স্কুলে আগুন লাগার খবর আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁরা ওই ছাত্রীকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে কী ভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
বোনকে স্কুলে ছেড়ে গিয়েছিলেন দিদি
মৃত ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যমে ওই ছাত্রীর দিদি জানিয়েছেন, শনিবার সকালে তিনি নিজেই বোনকে স্কুলে ছাড়তে গিয়েছিলেন। তখন বোনকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। তাঁর কথায়, “তখন তো হাসাহাসি করছিল। তার পর যে কী হল, জানি না।”
মৃতার দিদির দাবি, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ স্কুল থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, তাঁর বোনের অবস্থা গুরুতর। খবর পেয়ে তিনি স্কুলে পৌঁছন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, আগুনে পুড়ে তাঁর বোনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার আকস্মিকতায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যেরা।
আত্মহত্যার দাবি বিধায়কের, তদন্তে পুলিশ
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অনিল গোয়ল এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারেন, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন এবং মহকুমা শাসকের দফতরের আধিকারিকেরা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে এবং ছাত্রীর ব্যাগ থেকে কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য সামনে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
স্কুলের ভিতরে কী ভাবে আগুন লাগল, ছাত্রীটি কী পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘরের পিছনে পৌঁছলেন এবং মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও মেলেনি। স্কুল কর্তৃপক্ষও আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। ফলে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা—তা নিয়ে রহস্য রয়ে গিয়েছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর মৃত ছাত্রীর পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের।