The NewsNest Desk: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও অস্থিরতার আবহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের আসন্ন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা হয়েছে দুই নেতার। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় ফোনালাপের কথা জানান নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য, ইসরাইলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এক সাহসী ভারতীয় পাইলটের সঙ্গে মশাল প্রজ্বলনের জন্য তিনি মোদীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওই অনুষ্ঠানে ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের উপস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারত-ইসরাইল সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা
নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। নিজের সমাজমাধ্যমের পোস্টে তিনি জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন তাঁরা। আগামী দিনে এই অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। মোদীর বক্তব্য, ভারত ও ইসরাইলের দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করে চলেছে। দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উপরেও জোর দিয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহুও ভারত-ইসরাইলের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো নিয়ে আলোচনা
ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংঘাতকবলিত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন মোদী ও নেতানিয়াহু। তবে এই আলোচনার মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা বা নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ঘোষণা করা হয়নি। পশ্চিম এশিয়ার চলমান পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে। সংঘাতের অবসান এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন মোদীও।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সহযোগিতায় জোর
ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা দীর্ঘদিনের। দুই দেশের রাষ্ট্রনেতার সাম্প্রতিক কথোপকথনেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইসরাইলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মোদীর আমন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়ে মোদীর তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সংশ্লিষ্ট পোস্টে জানানো হয়নি।