The NewsNest Desk: বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পটেকরের মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। এবার তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন অভিনেত্রী সন্ধ্যা মৃদুল। তাঁর প্রশ্ন, কোনও অভিযুক্তের মৃত্যু হলে কি নির্যাতনের অভিযোগ এবং তার প্রভাবও মুছে যায়? কারও নাম উল্লেখ না করলেও সন্ধ্যার মন্তব্যকে নানা পটেকর ও তনুশ্রীকে ঘিরে চলা বিতর্কের প্রেক্ষিতেই দেখছেন অনেকে।
২০১৮ সালে নানা পটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তনুশ্রী দত্ত। একটি ছবির শুটিংয়ের সময় তাঁকে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছিলেন অভিনেত্রী। সেই অভিযোগ ঘিরে বলিউডে শুরু হয়েছিল ব্যাপক বিতর্ক। পরে ভারতে ‘মি টু’ আন্দোলনও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। নানা পটেকর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এই বিতর্কের সূত্র ধরেই দীর্ঘদিন ধরে দুই অভিনেতাকে ঘিরে আলোচনা চলেছে।
বৃহস্পতিবার নানা পটেকরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর তনুশ্রী দত্তের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অভিনেত্রী তাঁর বক্তব্যে নানা পটেকরকে ‘এভিল ডেড’ বলে উল্লেখ করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় বলে জানা গিয়েছে।
তবে সমালোচনার মধ্যেই তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন সন্ধ্যা মৃদুল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মৃত্যুর পর কি যৌন হেনস্থার অভিযোগের গুরুত্ব শেষ হয়ে যায়? নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির জীবনে সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব কি মুছে যায়? তাঁর বক্তব্য, যাঁরা নির্যাতনের শিকার হন, তাঁদের কাছে সেই অভিজ্ঞতার ক্ষত দীর্ঘদিন থেকে যেতে পারে।
সন্ধ্যার পোস্টে সরাসরি নানা পটেকর বা তনুশ্রী দত্তের নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বক্তব্যকে ওই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন নেটাগরিকদের একাংশ। তাঁর মন্তব্য ঘিরেও সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে পাল্টা আলোচনা। কেউ নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির অভিজ্ঞতা ও মানসিক যন্ত্রণার গুরুত্বের কথা তুলে ধরছেন, আবার কেউ প্রয়াত অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের প্রতি সংবেদনশীল থাকার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
তনুশ্রী দত্তও নিজের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে জানিয়েছেন, ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা এবং খাবারে বিষক্রিয়ার মতো অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে এই দাবিগুলি তনুশ্রীর নিজস্ব বক্তব্য; সেগুলিকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।
নানা পটেকরের মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া এই বিতর্ক আবারও সামনে এনেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যৌন হেনস্থার অভিযোগ, নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির অভিজ্ঞতা এবং অভিযুক্তের মৃত্যুর পর জনপরিসরে সেই বিষয়গুলি কীভাবে আলোচিত হওয়া উচিত? একদিকে প্রয়াত ব্যক্তির প্রতি শোক ও পরিবারের আবেগকে সম্মান জানানোর প্রশ্ন রয়েছে, অন্যদিকে অভিযোগকারীর বক্তব্য এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠছে।
সন্ধ্যা মৃদুলের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন সেই দুই দৃষ্টিভঙ্গির সংঘাত। তবে সামাজিক মাধ্যমে চলা আলোচনা থেকে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাই এই ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় সবচেয়ে জরুরি।
আরও পড়ুন: Nana Patekar Death: নানা পটেকরের মৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা, গোয়ায় তদন্তে পুলিশ