The NewsNest Desk: ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের উপর অতিরিক্ত ফি বসানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত হতে পারে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই নতুন ফি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেশজুড়ে তৈরি হওয়া অসন্তোষ এবং উৎসবের মরশুমে ডিজিটাল লেনদেনে তার সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্তটি পিছিয়ে দেওয়ার পথে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এই ফি কার্যকর করার কথা ভাবা হচ্ছে।
সম্প্রতি ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর বসানোর প্রস্তাব সামনে আসে। ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এ সংশোধনের পর এই সংক্রান্ত ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম চালুর কথা জানানো হয়েছিল। এই ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ইউপিআই লেনদেনে অতিরিক্ত খরচ চাপলে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা সাধারণ মানুষের উপরেই পড়তে পারে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সংস্থাগুলির চাপের কাছে কেন্দ্র নতি স্বীকার করেছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়। অতিরিক্ত এমডিআর দিতে হলে সেই খরচ ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু ব্যবসায়ী অনলাইন পেমেন্ট না নেওয়ার কথা জানাতে শুরু করেন। কোথাও কোথাও দোকানে পোস্টার দিয়ে বলা হয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা দিলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। আবার কিছু ব্যবসায়ী সরাসরি জানিয়ে দেন, তাঁরা শুধুমাত্র নগদে টাকা নেবেন।
উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রের উপর চাপ আরও বাড়ে। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে দীপাবলি এবং বিয়ের মরশুমে দেশে ডিজিটাল লেনদেন উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ে। সেই সময় ইউপিআই ব্যবহারে কোনও ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব খুচরো ব্যবসা থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সব ক্ষেত্রেই পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতেই আপাতত এমডিআর চালুর সময় পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্র। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের উৎসব এবং বিয়ের মরশুম পার হওয়ার পর আগামী জানুয়ারি থেকে এই অতিরিক্ত ফি কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।
ভারতে ইউপিআই এখন দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসা, রেস্তরাঁ থেকে অনলাইন পরিষেবা—প্রায় সর্বত্রই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়া যায়। ফলে এই ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত ফি চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু থেকেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সমীক্ষার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এমডিআর চালু হলে ইউপিআই ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে সরে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে উৎসবের মরশুমে ডিজিটাল লেনদেনে ধাক্কা লাগার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই আপাতত সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পথে হাঁটতে চাইছে কেন্দ্র বলে সূত্রের খবর।
অর্থাৎ, ১৫ অক্টোবর থেকেই ইউপিআই লেনদেনে নতুন ফি চালু হচ্ছে না—এমন সম্ভাবনাই এখন জোরালো। তবে শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত এমডিআর চালু হবে কি না, হলে কবে থেকে হবে এবং তার হার কত থাকবে, সে বিষয়ে কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকেই নজর এখন।