The NewsNest Desk: প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে এক বধূ ও তাঁর প্রেমিককে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠল গুজরাতে। ‘শুদ্ধকরণ’-এর নামে তাঁদের মারধর করার পাশাপাশি মহিলাকে প্রকাশ্যে যৌনতায় লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। ইতিমধ্যেই মহিলার স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনাটি গুজরাতের সুরেন্দ্রনগর জেলার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার সঙ্গে এক যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সংসারে অশান্তির জেরে মহিলা বাড়ি ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গে চটিলা এলাকায় চলে যান। সেখানে প্রায় তিন মাস তাঁরা ছিলেন বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে মহিলার খোঁজ পান তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তাঁকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার পর বাড়িতে আটকে রেখে অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ। কয়েক দিন পর কোনও রকমে বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে ফের প্রেমিকের কাছে চলে যান ওই মহিলা। এরপর তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফের খোঁজ শুরু করেন।
অভিযোগ, সুরেন্দ্রনগরের একটি বাড়িতে মহিলা ও তাঁর প্রেমিকের সন্ধান পাওয়ার পর তাঁদের জোর করে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আত্মীয়স্বজনদের ডেকে এনে দু’জনের উপর হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ। কাঠের বাটাম দিয়ে মারধরের পর ‘শুদ্ধকরণ’-এর নামে তাঁদের উপর আরও নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। স্থানীয় কয়েক জনও পুলিশকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহিলা ও যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।
সুরেন্দ্রনগরের ডেপুটি পুলিশ সুপার প্রেমসুখ ডেলু জানিয়েছেন, পুলিশের হাতে একটি ভিডিয়ো পৌঁছেছিল। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে ফোন আসে। এরপর দ্রুত পদক্ষেপ করে দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, মহিলাকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার নামে তাঁর উপর যে আচরণ করা হয়েছে, তা গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে মহিলার স্বামী-সহ মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার ভিডিয়ো কী ভাবে সমাজমাধ্যমে ছড়াল, কারা তা রেকর্ড করেছিল এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার মহিলা ও যুবকের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে। প্রেমের সম্পর্ক বা পারিবারিক বিরোধের জেরে কোনও ব্যক্তির উপর এই ধরনের নির্যাতন চালানো আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। সুরেন্দ্রনগরের এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
আরও পড়ুন : India-Pakistan বিএসএফের গুলিতে ২ পাকিস্তানি নিহত, একে অপরের কূটনীতিককে তলব ভারত-পাকিস্তানের